বর্তমান সময়ের গণমাধ্যমের লড়াইয়ে ইসলাম ও মুসলিমদের এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন তারা স্বভাবগতভাবেই হুমকিস্বরূপ। এই পরিস্থিতি মুসলিমদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে। ভালো ও মন্দ, সত্য ও অজ্ঞতার মধ্যকার সেই চিরন্তন সংগ্রামে আমরা কীভাবে এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করব? আমরা কি আগ্রাসনের পথ বেছে নেব এবং নিপীড়নের জবাবে নিপীড়ন দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাব? নাকি আমরা নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর দেখানো পথ অনুসরণ করব?
ইসলাম: শান্তির এক গভীর পথ
ইসলাম ও মুসলিমদের সঙ্গে সম্পর্কিত সব ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনার প্রধান মঞ্চ হয়ে উঠেছে গণমাধ্যম। নানা ধরনের গণমাধ্যম থেকে মানুষ প্রতিনিয়ত ভিন্ন ভিন্ন বার্তা পাচ্ছে। এর ফলে অনেক মুসলিমই বুঝতে পারছেন না, এসবের অর্থ কী এবং ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই প্রচারণার জবাব তাদের কীভাবে দেওয়া উচিত।
মানুষের প্রতি মানুষের অমানবিকতার অসংখ্য ঘটনা ইতিহাসে ছড়িয়ে আছে। আজকের পৃথিবীতেও সংঘাত চলছে। কিন্তু এর মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, গণমাধ্যমে ইসলামের যে চিত্র তুলে ধরা হয়, তার বিপরীতে ইসলাম প্রকৃতপক্ষে শান্তির পথ। এটি সংঘাত নিয়ন্ত্রণ ও কমিয়ে আনার পথ এবং নিরপরাধ মানুষের সুরক্ষার পথ।
ইসলামের অন্তর্নিহিত শান্তির বার্তার সম্পূর্ণ বিপরীতে আজকের মুসলিমরা এমন এক গণমাধ্যম প্রচারণার মুখোমুখি, যার লক্ষ্য সাধারণ মানুষের মনে ইসলাম সম্পর্কে ভয় সৃষ্টি করা। আর এই পরিস্থিতি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন মুসলিম ও অমুসলিম উভয় সমাজেই ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
কিছু মুসলিম গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলে অনেক সময় ইসলাম সম্পর্কে আরও ভুল ধারণা ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। আবার কেউ কেউ হতাশায় ভেঙে পড়েন এবং যেকোনো উপায়ে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন। এমনকি সেই উপায়গুলো অনৈতিক এবং ইসলামের নীতি ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হলেও তারা সেদিকে এগিয়ে যান।
অন্যদিকে কিছু মুসলিম নিজেদের গণমাধ্যম তৈরি করার পথ বেছে নিয়েছেন। সেখানে তারা মুসলিমদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতির ছবি তুলে ধরছেন, এমন মানবিক দিক তুলে ধরছেন যার সঙ্গে সব মানুষই নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারে এবং সহজেই সম্পর্ক খুঁজে পায়। নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর এই বাণী আমাদের মনে রাখা উচিত: “মানুষের সঙ্গে তাদের বোধ ও মানসিকতা অনুযায়ী কথা বলো।” তাই মুসলিমদের শিখতে হবে কীভাবে সেইসব মানুষের হৃদয়ে পৌঁছানো যায়, যারা গণমাধ্যম তাদের সামনে যে বার্তা তুলে ধরে, অনেকটা নিষ্ক্রিয় দর্শকের মতো সেটিই গ্রহণ করে চলেছেন।
ইতিবাচক কিছু উদাহরণ
আজকের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে এমন অনেক মুসলিম রয়েছেন, যারা এগিয়ে এসেছেন এবং ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণায় থাকা মানুষের কাছে কার্যকরভাবে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদাহরণ তৈরি করেছেন। বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া ভয় ও আতঙ্কের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। আর এর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সাধারণ মানুষের হৃদয় থেকে সেই ভয় দূর করা এবং তার জায়গায় ইসলামের প্রতি গভীর উপলব্ধি, সম্মান ও ভালোবাসা তৈরি করা। কারণ ইসলাম শান্তির ধর্ম।
আমরা সবাই কোনো মুসলিম ধারাবাহিকের তারকা হতে পারব না, সবাই ইসলামী সংগীতশিল্পী বা শিল্পীও হতে পারব না। কিন্তু ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের পর্যায়ে আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে, আমাদের কথা কতটা সুন্দর? আমাদের কাজ কতটা সুন্দর? মানুষ ও বিভিন্ন পরিস্থিতির প্রতি আমাদের আচরণ ও প্রতিক্রিয়া কতটা সুন্দর?
কোনো উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে, কোনো আলোচনা বা মুখোমুখি অবস্থানের সময় আমরা যখন মনে করি যে ইসলামকে রক্ষা করছি, তখন খুব সহজেই আমাদের মূল লক্ষ্যটি চোখের আড়ালে চলে যেতে পারে। অথচ আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং নবীর পথ অনুসরণ করা। মহান দয়ালু আল্লাহ নবী মুহাম্মদ ﷺ-কে পাঠিয়েছেন সমগ্র জগতের জন্য রহমত হিসেবে।
আমরা যদি সত্যিই রহমতের নবীর অনুসারী হয়ে থাকি, তাহলে আমাদের প্রতিদিনের জীবনে রহমতের দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্য নিরন্তর চেষ্টা করতে হবে। ইসলামবিরোধী বক্তব্য ও প্রচারণার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হওয়া উচিত নয়।
এই মহান প্রচেষ্টায় আমরা একা নই। কুরআন ও সুন্নাহ আমাদের পথ দেখায় এবং শেখায় কীভাবে রহমত, প্রজ্ঞা, শক্তি ও মর্যাদাকে একসঙ্গে ধারণ করতে হয়। কীভাবে মানুষের হৃদয় জয় করা যায় কুরআন ও নবী ﷺ-এর সুন্নাহ থেকে আমরা জানতে পারি, প্রজ্ঞাপূর্ণ ও মহৎ চরিত্র এবং আচরণের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। তিনি জানতেন কীভাবে গুরুতর পরিস্থিতিকে শান্ত করতে হয়। নিজের ব্যক্তিগত বিষয়ে কেউ আক্রমণ করলেও তিনি কখনো প্রতিশোধ নিতেন না। বরং তিনি আমাদেরও তাঁর পথ অনুসরণ করতে উৎসাহিত করেছেন।
তিনি অসংখ্য রকমের পরিস্থিতি এবং নানা ধরনের মানুষের মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই ন্যায়বিচার ও নমনীয়তার নীতিতে অটল ছিলেন। তিনি সব ভালো কাজের প্রতি উৎসাহ দিতেন এবং সব ধরনের নীচতা ও অন্যায়ের নিন্দা করতেন। তিনি প্রজ্ঞা, কোমলতা ও ধারাবাহিকতার সঙ্গে তাঁর সাহাবিদের গড়ে তুলেছিলেন। তিনি যা কিছু করতেন, সবকিছুতেই ছিল ভারসাম্য। কোনো বাড়াবাড়ি বা সীমালঙ্ঘন ছিল না। বিনয়, স্পষ্টভাষিতা ও প্রশান্তির সঙ্গে তিনি শত্রুতা, হুমকি ও অপমানের মোকাবিলা করেছেন। তিনি আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন এবং অবিচল থেকেছেন। মানুষ তাঁর দয়া ও সহানুভূতির জন্য তাঁকে চিনত এবং তাঁর কাছ থেকে কখনো হতাশ হয়ে ফিরে যায়নি।
নবী ﷺ তাঁর অনুকরণীয় আচরণের মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন। তিনি কখনো কণ্ঠ উঁচু করতেন না, অশালীন ভাষা ব্যবহার করতেন না, নারীদের অসম্মান করতেন না এবং মানুষের ভুলত্রুটি মর্যাদার সঙ্গে উপেক্ষা করতেন। এমনকি যারা প্রকাশ্যে তাঁর শত্রুতা করত, তাদের হৃদয়ও তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যেত। কোমলতা, বিনয়, শক্তি ও দয়ার মাধ্যমে নবী ﷺ একটি উম্মাহকে একত্রিত করেছিলেন এবং তাদের গড়ে তুলেছিলেন।
আজ মুসলিমরা নানা ধরনের হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা নির্যাতিতও হচ্ছেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, নবী ﷺ এবং তাঁর সাহাবিরাও বছরের পর বছর নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এরপর তাদের তিন বছর ধরে একটি উপত্যকায় অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয়েছিল, যেখানে তারা ক্ষুধা ও চরম অভাবের মধ্যে দিন কাটিয়েছেন।
তাদের মক্কা থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। নিজেদের সম্পদ ও সম্পত্তি পেছনে ফেলে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত যখন নবী ﷺ ও তাঁর অনুসারীরা বিজয়ী হয়ে মক্কায় ফিরে এলেন, তখন চাইলে তাদের ওপর নির্যাতনকারীদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার পূর্ণ সুযোগ ছিল।
কিন্তু নবী ﷺ তাঁর শত্রুদের এবং যারা তাঁকে ও তাঁর অনুসারীদের নির্যাতন করেছিল, তাদের ক্ষমা করে দিলেন। তিনি তাদের বললেন: “যাও, তোমরা মুক্ত।” নবী মুহাম্মদ ﷺ গুজব ও অপপ্রচারেরও মুখোমুখি হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ছিলেন ধৈর্যশীল, প্রজ্ঞাবান, স্পষ্টভাষী ও পরম সহনশীল। আজকের দিনে মানুষের অজ্ঞতা এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া ভুল তথ্যের মোকাবিলা করার সময় নবী ﷺ-এর এই দৃষ্টিভঙ্গি, চরিত্র ও আচরণ কি আমাদের পথ দেখাতে পারে না?
তারিখঃ ২৮ জানুয়ারি ২০২৪
কৃতজ্ঞতায়ঃ Sunnah files web
মিডিয়ায় ইসলামের ওপর আক্রমণ: মুসলিম উম্মাহর করণীয়
ভেনিসে মুসল্লিদের জুমার নামাজে উসকানি, বন্ধ মসজিদেও হামলার অভিযোগ
দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ দূর করতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো ৯টি দোয়া
ইসলামে তাওবা কবুলের ৫টি মৌলিক শর্ত
হিজাব পরলেই জরিমানা: ফ্রান্সে উগ্র ডানপন্থীদের নতুন পরিকল্পনার ছক
২৫ বছরের প্রতারণা: 'সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ' দিয়ে যেভাবে মুসলিমদের কলঙ্কিত করেছে পশ্চিমারা
সিম্পল রিজনের উদ্যোগে সিলেটে কুরআন বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন
প্রাণীদের প্রতি আচরণে মহানবী ﷺ-এর আদর্শ
পশ্চিমা বিশ্বে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ইসলামবিদ্বেষকে ব্যবহার করছে ইসরায়েল
লন্ডনে তালিমুল কুরআন ইউকে মসজিদের ১৩তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত
গাজায় মৃতদের দাফনের জন্যও ফুরিয়ে আসছে জায়গা
কেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব?
মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের সময় কী কী নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছিল?
যেসব বৈশিষ্ট্য ইসলামকে অনন্য করে তুলেছে
রাসুল ﷺ ও তাঁর পরিবার মাসের পর মাস 'যে দুই কালো খাবারে' জীবনধারণ করেছিলেন
মিডিয়ায় ইসলামের ওপর আক্রমণ: মুসলিম উম্মাহর করণীয়
ভেনিসে মুসল্লিদের জুমার নামাজে উসকানি, বন্ধ মসজিদেও হামলার অভিযোগ
দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ দূর করতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো ৯টি দোয়া
ইসলামে তাওবা কবুলের ৫টি মৌলিক শর্ত
হিজাব পরলেই জরিমানা: ফ্রান্সে উগ্র ডানপন্থীদের নতুন পরিকল্পনার ছক
২৫ বছরের প্রতারণা: 'সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ' দিয়ে যেভাবে মুসলিমদের কলঙ্কিত করেছে পশ্চিমারা
সিম্পল রিজনের উদ্যোগে সিলেটে কুরআন বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন
প্রাণীদের প্রতি আচরণে মহানবী ﷺ-এর আদর্শ
পশ্চিমা বিশ্বে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ইসলামবিদ্বেষকে ব্যবহার করছে ইসরায়েল
লন্ডনে তালিমুল কুরআন ইউকে মসজিদের ১৩তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত
গাজায় মৃতদের দাফনের জন্যও ফুরিয়ে আসছে জায়গা
কেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব?
মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের সময় কী কী নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছিল?
যেসব বৈশিষ্ট্য ইসলামকে অনন্য করে তুলেছে
রাসুল ﷺ ও তাঁর পরিবার মাসের পর মাস 'যে দুই কালো খাবারে' জীবনধারণ করেছিলেন