সর্বশেষ
  ২৫ বছরের প্রতারণা: 'সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ' দিয়ে যেভাবে মুসলিমদের কলঙ্কিত করেছে পশ্চিমারা   সিম্পল রিজনের উদ্যোগে সিলেটে কুরআন বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন   প্রাণীদের প্রতি আচরণে মহানবী ﷺ-এর আদর্শ   পশ্চিমা বিশ্বে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ইসলামবিদ্বেষকে ব্যবহার করছে ইসরায়েল    লন্ডনে তালিমুল কুরআন ইউকে মসজিদের ১৩তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত   গাজায় মৃতদের দাফনের জন্যও ফুরিয়ে আসছে জায়গা   কেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব?   মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের সময় কী কী নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছিল?   যেসব বৈশিষ্ট্য ইসলামকে অনন্য করে তুলেছে   রাসুল ﷺ ও তাঁর পরিবার মাসের পর মাস 'যে দুই কালো খাবারে' জীবনধারণ করেছিলেন   মেলবোর্নে মসজিদের কাছে মুসলিম বাবার ওপর হামলা, অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ   ফ্রান্সে মসজিদ বন্ধ: মুসলিম সমাজে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের আতঙ্ক   স্কুলে যাওয়ার আগে শিশুকে টয়লেট ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিতে হবে: যুক্তরাজ্যে অভিভাবকদের জন্যও টয়লেট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা   যা আল্লাহর হাতে, তা আল্লাহর কাছেই ছেড়ে দিন   কিয়ামতের অন্যতম বড় আলামত: দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ ও তার ফিতনা থেকে মুক্তির পথ   গাজা যুদ্ধ বন্ধে একের পর এক উদ্যোগ, কিন্তু কেন বারবার ব্যর্থ হলো আলোচনা?   ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশ গাজা শান্তি পরিষদ চুক্তির শর্তাবলি   মুসলিম তরুণদের জন্য সূরা আল-কাহফের ৫টি অনুপ্রেরণাদায়ক শিক্ষা   যুক্তরাজ্যে প্রতি পাঁচ দিনেই একটি মসজিদে হামলা: বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ, শঙ্কায় মুসলিম সমাজ   লন্ডনে AMTC-এর উদ্যোগে উদ্যোক্তা ও ফাউন্ডার মিটিং অনুষ্ঠিত   উইঘুর মুসলিমদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় হুমকিতে ফেলছে চীনের নতুন আইন   ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করো    যুক্তরাজ্যে তাবলিগের ইজতেমায় হামলার আশঙ্কায় ডজনখানেক সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার   গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা; আহত ৬   গাজায় আবারও যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত ইসরায়েলের   বিভাজনের নীতি প্রত্যাখ্যান করে প্রতিরোধের পথেই অবিচল গাজাবাসী   যুক্তরাজ্যে ইমামের বাড়িতে পেট্রোলবোমা হামলা, মসজিদের বাইরে উদ্ধার সন্দেহজনক বস্তু   পশ্চিমা দেশ ছেড়ে হিজরাহ: সন্তান প্রতিপালনে কেন দুবাই-সৌদির চেয়ে মিশর এগিয়ে?   মাওলানা পীর মুজাফফর আহমদ: রোহিঙ্গা মুসলিমদের এক আধ্যাত্মিক অভিভাবক   বিশিষ্ট আলেম ও গহরপুর মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা কবির আহমদের ইন্তেকাল   ফুটবল বিশ্বকাপে মাতোয়ারা বিশ্ব, গাজায় চলছে টিকে থাকার চরম লড়াই   গাজায় ফের বড় অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী   পরিবর্তনশীল বিশ্বে মুসলিম অভিবাসনের ৫টি আপাত-বিপরীত বাস্তবতা   গাজা ইস্যুতে বিশ্বের দ্বিমুখী নীতি উন্মোচন, বেন গভিরের বক্তব্যেই ইসরায়েলের বয়ান ধূলিসাৎ   প্রযুক্তির ছোঁয়ায় স্মার্ট হজ: অ্যালগরিদমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম জনমসাগম   আলেম ও বাবাদের শারীরিক সুস্থতায় হালাল অ্যাওয়ারনেস নেটওয়ার্কের মর্নিং ওয়াক   সিলেট দাওয়াহ সেন্টারের উদ্যোগে আলী বাহার চা বাগানে দা'ওয়াতি কার্যক্রম ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান   "সিগারেট নয়, রুটি চাই": গাজায় বিতর্কিত ত্রাণ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে ফিলিস্তিনিরা   বাংলাদেশের হৃদয়ে ফিলিস্তিন: আলেম, বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে ‘উলামায়ে উম্মাহ’-র প্রতিনিধি দলের ব্যাপক সংযোগ   দ্য ইকোনমিস্ট: গাজায় এখন ইঁদুর ছাড়া সবকিছুই স্থবির   হালাল এওয়ারনেস নেটওয়ার্কের উদ্যেগে রোড ট্রিপ ও নিউক্যাসলে দিনব্যাপী হালাল স্ট্রিট ক্যাম্পেইন সমাপ্ত    গাজায় গণহত্যার নতুন কৌশল: নিভৃতে চলছে নিধন   আল-আকসা দখল হলে আমাদের করণীয় কী ?   ‘বাংলাদেশে দ্বীনের খেদমতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের করণীয়: যুবসমাজ, পরিবার ও ইসলামী পরিচয় রক্ষায় ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত   গাজায় চরম পানি সংকট: আল-মাওয়াসিতে তৃষ্ণায় মৃত্যুর মুখে হাজারো মানুষ   ইসরায়েলের ‘একতরফা মৃত্যুদণ্ড’ নীতি: আট দেশের তীব্র নিন্দা   সিলেটে সিম্পল রিজন চ্যারিটির উদ্যেগে ফ্রি সুন্নাতে খতনা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত   ফিলিস্তিনি মুসলিম পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা ইসরায়েলের   গাজায় নারীদের বেঁচে থাকার ন্যূনতম পরিবেশও দিচ্ছে না ইসরায়েল: অ্যামনেস্টি   আল-আকসা মসজিদ কি শিগগিরই বন্ধ হতে যাচ্ছে?   গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে সুদানের দুর্ভিক্ষ: ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে রমজানের আগমন   গাজায় “দ্য ভ্যাপোরাইজড”: এক অনুসন্ধানে এমন ইসরায়েলি অস্ত্রের তথ্য উঠে এসেছে, যা হাজারো ফিলিস্তিনিকে নিশ্চিহ্ন করেছে   নেতানিয়াহুর বন্ধুর কবজায় টিকটক: অ্যালগরিদমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই   গাজা এখন “আল-মসীহ আদ-দাজ্জাল”-এর শাসনের অধীনে   ইহুদি ধর্মগ্রন্থ, জায়নবাদ ও মুসলিমদের জন্য সচেতন পাঠ: ইতিহাস, আদর্শ ও বাস্তবতার মুখোমুখি   ইজরায়েলি সংসদে গাজা বাস্তুচ্যুতি এজেন্ডা: ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দিতে নতুন পরিকল্পনার আলোচনা   সিলেট দা’ওয়াহ সেন্টারে নাসীহাহ সেশন: সবার জন্য দ্বীন শিক্ষায় মসজিদ কেন্দ্রিক উদ্যোগের আহ্বান   হালাল অ্যাওয়ারনেস নেটওয়ার্কের নির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত   যুক্তরাজ্যে বাড়ছে তরুণ মেধাবীদের দেশত্যাগের প্রবণতা   লন্ডনে তা'লিমুল কুরআন মসজিদের ১২তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল সম্পন্ন   সিম্পল রিজনের উদ্যোগে সিলেটে দিনমজুরদের মাঝে দা’ওয়াহ কার্যক্রম ও ফুডপ্যাক বিতরণ সম্পন্ন   ইসলামের চিন্তা ও একদল ভুল মানুষ   হামলা যেদিকে আসে মোকাবিলাও সেদিকে করতে হয়   শায়খে বাঘা রহ.’এর নামে পাকিস্তানে মসজিদ নির্মাণ করছে সিম্পল রিজন চ্যারিটি   কুইন মেরী ইউনিভার্সিটির গবেষণা ‘জেনোসাইড ইন মায়ানমার’   গ্রন্থ পর্যালোচনা: দ্যা রুম হোয়ার ইট হ্যাপেন্ড   গ্রন্থ পর্যালোচনা: ইবনে খালদুনের দ্য মুকাদ্দিমা   সিম্পল রিজন চ্যারিটির উদ্যোগে সুনামগঞ্জে শীতকালীন ফুড এইড কার্যক্রম সম্পন্ন   সিলেটে সিম্পল রিজন চ্যারিটির উদ্যেগে ফ্রি সুন্নাতে খতনা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত   ইস্তাম্বুলে হালাল ফুড এক্সপোতে দ্য এসোসিয়েশন অব হালাল রিটেইলারস ইউকের অংশগ্রহণ   লন্ডনে সিম্পল রিজন চ্যারিটির উদ্যোগে 'সেবার মাধ্যমে দাওয়াহ' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত   সিম্পল রিজনের সহযোগীতায় বগুড়ায় দাওয়াহ হালাকাহ অনুষ্ঠিত   সিলেটে নববী দাওয়াহ : পদ্ধতি ও শিক্ষা শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত   নোয়াখালীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় সিম্পল রিজনের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান   লক্ষীপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সিম্পল রিজন চ্যারিটির ত্রাণ বিতরণ   কুরবানি, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিধান। মুফতি শরীফ মোহাম্মদ সাঈদ   লন্ডনে সিম্পল রিজনের অফিস পরিদর্শন করলেন মুফতি সাইফুল ইসলাম   লিডসে শায়েখে বাঘা রহঃ-এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত   বার্মিংহামে শায়েখে বাঘা রহঃ জীবন ও কর্ম শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত   লন্ডনের সভায় আলেমরা বি এ এস বি কমপ্লেক্সকে সহযোগিতার আহবান জানালেন।   বই- বশীর আহমদ শায়খে বাঘা রহ.   বায়রাক্তার টিবি২ দীপ্তিমান করছে তুরস্কের ভাগ্য   জার্মানিতে বছরে শতাধিক মসজিদে হামলা; উদ্বিগ্ন মুসলিমরা   বুজুর্গ উমেদ খাঁ। চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধারের মহানায়ক!   ডুরান্ড লাইন! পাক - আফগান দ্বন্দ্বের রেড লাইন!   ত্রিপুরা ও বাংলার ঐতিহাসিক সম্পর্ক | পর্ব ২   ত্রিপুরার সাথে ইসলাম এবং বাংলাদেশের সহস্র বছরের যোগসূত্রের সন্ধানে!   আসামের বর্তমান পরিস্থিতি!   আসামে ইসলামের আগমন ও এন আর সি ক্রাইসিস।   নবাব নুর উদ্দিন মুহাম্মদ বাকের জং। ইতিহাসে ঠাঁই না পাওয়া বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব!   প্রাক-ইসলামিক আরব। ধর্ম, সমাজ ও সংস্কৃতি।   ইউরোপ থেকে ভারতবর্ষের অবিচ্ছিন্ন জলপথ আবিষ্কার।   আফ্রিকার বুকে পর্তুগীজ কলোনি স্থাপনের ইতিহাস।   পূর্ব আফ্রিকায় পর্তুগিজ উপনিবেশ স্থাপন, শোষণ ও ফলাফল   ধর্ষণের আলামত যেভাবে পরীক্ষা করা হয়।   মেটাভার্স   বাংলাদেশের সাথে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চায় তুরস্ক   লিবারেলিজম।   ইউরোপে ইসলাম বিদ্বেষের উত্থান।    পাকিস্তানে ইসলামী দল, তেহরিক-ই-লাব্বাইক নিষিদ্ধের ঘোষণা।   ২০২০ সালের দিল্লি সহিংসতা ছিল একটি সংগঠিত, পরিকল্পিত ‘প্রোগ্রাম’। এবং কেন?   ২০০২ সালের গুজরাট গণহত্যা ও নরেন্দ্র মোদি   রিবা নির্মূল হতে পারে সীরাতের পন্থায়!   ১৯৯১ সালে কাশ্মীরের কুনান ও পোশপোরায় গণধর্ষণ। আজও বিচার হয়নি।   নজরদারি: ‘দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত’   ব্যবসার সঙ্গে অন্য সংস্কৃতিকে যুক্ত করার এজেন্ডা!

মেটাভার্স

৩০ নভেম্বর ২০২১ ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

    শেয়ার করুন

মনির আহমদ মনির।

মেটাভার্স- বর্তমানে তুমুল আলোচিত একটি নাম। যাকে বলা হচ্ছে ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ; যেখানে ইন্টারনেটকে এমন জীবন্ত ও জীবনঘনিষ্ঠ করে তোলা হবে যা আমাদের বর্তমান ডিজিটাল দুনিয়ার ধারণারও বাইরে! মেটাভার্স হবে নতুন এক জগত যেখানে মানুষের বাস্তব অস্তিত্ব ও ভার্চুয়াল অস্তিত্বকে এমনভাবে মিশিয়ে দেয়া হবে যে, চোখে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভি আর) হেডসেট ও চশমা পরে মানুষ প্রবেশ করবে এক নতুন ডিজিটাল জগতে।

সেখানে প্রতিটি মানুষের একটি করে অবতার (Avatar) সৃষ্টি হবে; যেটি দিয়ে সেই জগতে মানুষ পরস্পরের সঙ্গে বাস্তব পৃথিবীর মতোই আড্ডা দেবে, ঘুরে বেড়াবে, শ্রেণী কক্ষে ক্লাস করবে, অফিসের কাজ করবে, শপিং করবে, লাইভ কনসার্টে যোগ দেবে, খেলাধুলা করবে। কেউ চাইলে চলে যেতে পারে ইতিহাসের আদি কোন পর্বে। ইচ্ছে মতো ঘুরে আসতে পারবে পৃথিবীর যেকোন পছন্দের যায়গা থেকে। সময় কাটাতে পারবে শত শত বছর আগে গত হওয়া কোন মানুষের সাথেও। অর্থাৎ মানুষ সবই করবে, তাঁর শরীর থাকবে ঘরে কিংবা বাইরে কিন্তু দেখার ও অনুভবের জগত হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন-ভার্চুয়াল।

প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, মেটাভার্সের কারণে ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল জগতকে মনে হবে বাস্তব জগতের মতো যেখানে মানুষের যোগাযোগ হবে বহুমাত্রিক। মেটাভার্স প্রযুক্তির মাধ্যমে আপনি কোন কিছু শুধু কেবল দেখতেই পাবেন না, তাতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলতেও সক্ষম হবেন।

মেটাভার্স প্রযুক্তির কথা সাইন্স ফিকশনের কল্পকাহিনীর মতো শুনতে মনে হলেও তা বাস্তবায়ন করার পথে অনেক দূর পৌঁছে গেছে প্রযুক্তি দানব প্রতিষ্ঠান গুলো। ইতোমধ্যে জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ পাঁচ বছরের মধ্যেই ফেসবুক মেটাভার্স প্রযুক্তিতে পদার্পণ করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

মেটাভার্সে ইন্টারনেট জগতকে বাস্তব জগতের মতোই মনে হবে। সহজ উদাহরণ দিয়ে যদি বলি, এখন আমরা অনলাইনে পণ্য দেখে শপিং করি, ক্যাশ অন ডেলিভারি বা ক্রেডিট কার্ডে দাম মেটাই। মেটাভার্সে চোখে ভি আর ডিভাইস যুক্ত করে আপনি ডিজিটাল শপিং ওয়ার্ল্ডে প্রবেশ করবেন যেখানে পছন্দের পোশাকটির একটি ডিজিটাল সংস্করণ আপনার অ্যাভাটারের গায়ে পরিয়ে মনমতো হলে এবার পোশাকটি কিনে ফেললেন। অ্যাভাটার হবে আপনারই ডিজিটাল শরীর। তাই মনে হবে যেন সত্যিই পোশাকটি আপনিই গায়ে দিয়েছেন! কাগজের মুদ্রা বা ক্রেডিট কার্ডের জায়গা দখল করবে ডিজিটাল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি।

শুধু শপিং নয়, মেটাভার্সের জগতে এভাবে সবকিছুই হবে ভার্চুয়ালি। থ্রি-ডি গেইম কিংবা থ্রি-ডি মুভির মাধ্যমে থ্রি-ডি ভার্চুয়াল জগতের কিছুটা ধারণা আমরা পাই কিন্তু সামনের পৃথিবীতে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সবকিছুই হবে থ্রি-ডি এবং যে প্ল্যাটফর্মে এটি সংঘটিত হবে সেটিই মেটাভার্স।

মেটাভার্স প্রযুক্তির দিকে কেবল ফেসবুক নয়, অনেক তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি বিভিন্ন প্রকারের মেটাভার্স প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে ইতোমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছে। মাইক্রোসফট, অ্যাপল, গুগুল- সবাই! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence- AI) এবং মেশিন লার্নিং হবে এই প্রযুক্তির চালিকাশক্তি। মেটাভার্সের দুনিয়ায় জড়িয়ে যাবে মানুষের ব্যক্তিজীবন, পেশাজীবন, সমাজজীবন, শিক্ষা, অর্থনীতি, শিল্প, বিনোদনসহ প্রায় সব কিছুই। কিন্তু, মানবজীবন তো আর থ্রি-ডি ভিডিও গেইম নয়। তাই এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইনগত বিষয়গুলো কেমন হবে সেটিও বর্তমানে ভীষণ প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেছে।

বাস্তব জগত থেকে ভার্চুয়াল জগতে অবাধ, স্বাধীন ও সহজ প্রবেশাধিকার মানব জাতির জন্য কল্যান নাকি ক্ষতি বয়ে আনবে সেটাও এখন বড় প্রশ্ন।

বাস্তব দুনিয়ায় যে রকম অপরাধ হয়, মেটাভার্সের ভার্চুয়াল জগতেও তেমন অপরাধ সংঘটিত হতে পারে। যেমন, ভার্চুয়াল প্রতারণা, ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলিং, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও তথ্যের অপব্যবহার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন, ভার্চুয়াল সম্পদ লুণ্ঠন, ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস লঙ্ঘন প্রভৃতি। প্রশ্ন উদয় হয় মেটাভার্স জগতে এসব বিষয়ের আইনগত পরিসীমা ও বিচার প্রক্রিয়া কীভাবে নির্ধারিত হবে?

মেটাভার্স প্রযুক্তি আবির্ভাবের সাথে সাথে মানবিকতা ও বাস্তব জগতের বোধও লুপ্ত হবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। দেখা যেতে পারে মায়ের খুব কাছেই তার ছোট্ট শিশুটি ক্ষুধার যন্ত্রণায় কান্না করছে কিন্তু পাশে থাকা সত্ত্বেও মায়ের কর্ণ কুহুরে সন্তানের কান্নার ধ্বনি পৌঁছাচ্ছে না! এক বিছানায় থেকেও মা সারা দিচ্ছে না সন্তানের করুন আবেদনে। কেননা তখন হয়তো মা বাস্তব জগতে নেই, তিনি হয়তো ভি আর হেডসেট লাগিয়ে বিচরণ করছেন বলিউডের রঙিন জগতে। মেটাভার্সের ভার্চুয়াল জগতে প্রবেশ করা ব্যক্তির পাশেই কী ঘটছে সে জানবে না। নিজ ঘরে আগুন লাগলেও না, বাইরে থেকে শত শত মানুষ আগুন আগুন বলে চিৎকার করলেও ততক্ষণ পর্যন্ত সে কিছুই জানবে না যেই পর্যন্ত না তার নিজ শরীরে আগুন স্পর্শ করে।

মেটাভার্সের ভার্চুয়াল জগতে সদ্য গোফ গজানো সম্ভবনাময় তরুণ ছেলেটি শিক্ষামূলক টিউটরিয়াল দেখার নামে পর্নগ্রাফি বা অন্য কোন নিষিদ্ধ জগতে প্রবেশ করছে কিনা তাও বোঝার সুযোগ থাকছে অভিভাবকদের। কোন সন্ত্রাসী চক্রের সাথে যুক্ত হয়ে অপরাধ মূলক কাজের প্রশিক্ষণ পর্ব কেউ নিজ শয়ন কক্ষে শুয়ে-বসেই সেরে ফেলছে কিনা তাও বোঝার উপায় নেই! এর ফলে হুঁ হুঁ করে বেড়ে যেতে পারে অপরাধ ও অপরাধীর সংখ্যা। ঘটতে মানসিক বিকৃতি ও পারস্পারিক সন্দেহ প্রবণতা।

শুধু তাই নয় মেটাভার্স জগতে বর্তমান বাণিজ্য আইন ও মুদ্রানীতি অকার্যকর হয়ে যাবে। ডিজিটাল এক্সচেঞ্জ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সামনে চলে আসবে। এই ডিজিটাল মুদ্রা কারা ব্যবহার করবে? কিভাবে করবে? মালিকানা কীভাবে হবে? কে বেচবে? কে কিনবে? কে বাণিজ্য করতে পারবে? কে পারবে না? সবকিছুর জন্য নতুন আইন ও আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। এছাড়া যদি কোন কারণে সার্ভার ফল করে তাহলে সমস্ত সম্পদ ও সঞ্চয় নিমিষেই নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে।

বর্তমান সময়ের চেয়ে মেটাভার্স জগত হবে অনেক বেশি বায়োমেট্রিক তথ্য নির্ভর। অর্থাৎ, মেটাভার্স কোম্পানিগুলো আমাদের আঙুলের ছাপ শুধু নয়, বরং আমাদের চোখের দৃষ্টি, ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন, মস্তিষ্কের চিন্তা-ভাবনা, এমনকি আমাদের প্রাত্যহিক যাবতীয় কর্মকাণ্ডের ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে। যেহেতু মানুষ জাগ্রত অবস্থা এমনকি নিদ্রিত অবস্থারও বেশিরভাগ সময় মেটাভার্স জগতে ব্যয় করবে, এর ফলে সেসব মানুষের ব্যক্তিগত সমস্ত তথ্যের মালিকানা কার হাতে থাকবে? ব্যক্তিগত তথ্য যদি চুরি হয় কিংবা অপব্যবহার হয়- তাহলে কে দায়ী হবে? কীভাবে দায়ী হবে? সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তথ্য চলে যাবে রাষ্ট্র কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে, মানুষ হয়ে পড়বে অনেক অনেক বেশি রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত, স্বাধীনতা হবে খর্ব, প্রাইভেসির কোন থাকবে না‌ বালাই।

প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষকদের অনেকেই মনে করছেন, মেটাভার্সের মাধ্যমে ফেসবুকের মতো কোম্পানিগুলো বর্তমানের চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত তথ্য আরও সহজে হাতিয়ে নেবে, মানুষ অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি ডিজিটাল সারভেইলেন্স-এর শিকার হবে, মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের বাণিজ্যিক ব্যবহারের মাধ্যমে এরা আর্থিকভাবে আরো লাভবান হবে এবং তথ্যের অপব্যবহার ঠেকানো কঠিনতর হয়ে উঠবে। মেটাভার্স হবে ডাটা ব্যবসায়ীদের জন্য সোনার খনি।

ফেইসবুকের প্রথম দিককার বিনিয়োগকারীদের একজন রজার ম্যাকনামি ইতোমধ্যে বলেছেন, “মেটাভার্স একটা বাজে বুদ্ধি আর আমরা সবাই বসে বসে এটা দেখছি যেন এটা স্বাভাবিক কিছু। সবাইকে দুশ্চিন্তায় পরা উচিত এটা নিয়ে।

এছাড়া ফেসবুকের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ভার্চুয়াল জগৎকে নিজেদের উপনিবেশ বানিয়ে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন- ভি আর বিশেষজ্ঞ ম্যাকিনটশ।

সম্প্রতি ফেসবুকের প্রাক্তন ডাটা সায়েন্টিস্ট ও সিভিক ইন্টেগ্রিটি ইউনিট ম্যানেজার ফ্রান্সেস হাউগেন জানিয়েছেন যে, কেবল এক ইনস্টাগ্রামের কারণেই ৩২ শতাংশ কিশোরী নিজেদের শরীর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। এমন আরও অজস্র নেতিবাচক বিষয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পেতে পারে মেটাভার্সে।

মেটাভার্স প্রযুক্তি মানুষের অনেক সেবা হাতের নাগালে যেমন এনে দিবে আবার বিনিময়ে ব্যক্তিগত সকল তথ্যই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেই চলে যাবে। যার ফলে নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে মানুষের জীবন। ম্যানিকটসের আশংকা সত্য হলে কার্যতই গড়ে উঠবে ভার্চুয়াল উপনিবেশ।

ম্যাটাভার্সের ফলে কাল্পনিক জগত ও ভিডিও গেইমসে বুদ হয়ে থাকা তারুণ্যের মাঝে বেড়ে যেতে পারে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, জীবন সম্পর্কে হতাশা ও আত্মহত্যাকারীর সংখ্যা। অবাধ মেটাভার্সের জগত ঘটাতে পারে ব্যাপক নৈতিক স্খলন। ধর্ম থেকে দূরে ইহজীবন থেকে মহাজীবনের পথে যাত্রা সম্পর্কে ভুলে থাকা সভ্যতার মানুষদের জন্য মেটাভার্স কী অদ্য সুফল বয়ে আনবে নাকি এই সভ্যতার মানুষেরা বড় সংকটে পড়তে যাচ্ছেন? সেই জল্পনা-কল্পনা, আশা-আশংকার বাস্তব প্রকাশ দেখতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আরো কিছু সময়।

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

২৫ বছরের প্রতারণা: 'সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ' দিয়ে যেভাবে মুসলিমদের কলঙ্কিত করেছে পশ্চিমারা

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

সিম্পল রিজনের উদ্যোগে সিলেটে কুরআন বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

প্রাণীদের প্রতি আচরণে মহানবী ﷺ-এর আদর্শ

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

পশ্চিমা বিশ্বে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ইসলামবিদ্বেষকে ব্যবহার করছে ইসরায়েল 

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

লন্ডনে তালিমুল কুরআন ইউকে মসজিদের ১৩তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

গাজায় মৃতদের দাফনের জন্যও ফুরিয়ে আসছে জায়গা

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

কেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব?

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের সময় কী কী নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছিল?

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

যেসব বৈশিষ্ট্য ইসলামকে অনন্য করে তুলেছে

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

রাসুল ﷺ ও তাঁর পরিবার মাসের পর মাস 'যে দুই কালো খাবারে' জীবনধারণ করেছিলেন

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

মেলবোর্নে মসজিদের কাছে মুসলিম বাবার ওপর হামলা, অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

ফ্রান্সে মসজিদ বন্ধ: মুসলিম সমাজে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের আতঙ্ক

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

স্কুলে যাওয়ার আগে শিশুকে টয়লেট ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিতে হবে: যুক্তরাজ্যে অভিভাবকদের জন্যও টয়লেট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

যা আল্লাহর হাতে, তা আল্লাহর কাছেই ছেড়ে দিন

The Global Affairs - সর্বশেষ সংবাদ ও শিরোনাম

কিয়ামতের অন্যতম বড় আলামত: দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ ও তার ফিতনা থেকে মুক্তির পথ

the global affairs google play logo the global affairs apple logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ হোসাইন আহমদ

ঠিকানা: বি এ এস বি কমপ্লেক্স, ক্বারীপাড়া, আখালিয়া, সিলেট-৩১০০, বাংলাদেশ।

+8801932-188582

globalaffairsbrand@gmail.com, info@theglobalaffairs.info