দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি শিবিরে ভোর হতেই শুরু হয় নাওয়াফ আল-আখরাসের সংগ্রাম। তিনি তাঁর বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বোতল ও জেরিক্যান হাতে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের একটি পানি সংগ্রহকেন্দ্রের দিকে রওনা দেন।
সেখানে পৌঁছেই দেখা যায় হাজারো মানুষের দীর্ঘ সারি। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় শুধু সামান্য পানি পাওয়ার আশায়।
সাত সন্তানের জনক নাওয়াফ দুই বছর আগে রাফাহ থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আল-মাওয়াসিতে আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, প্রতিদিনের এই যাতায়াত ও অপেক্ষা তাঁর পরিবারের জন্য এক অসহনীয় কষ্ট, আর একই দুর্ভোগে রয়েছেন ইসরায়েলের ধ্বংসযজ্ঞে বাস্তুচ্যুত হওয়া আরও অসংখ্য ফিলিস্তিনি।
তিনি বলেন, “আমি আর আমার ছেলে পুরো দিনটাই লাইনে দাঁড়িয়ে পানি সংগ্রহ করি। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। শুধু পান করার জন্য এই কষ্ট প্রতিদিন সহ্য করতে হচ্ছে।”
সম্প্রতি গাজার বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে আল-মাওয়াসিতে, পানির সংকট আরও তীব্র হয়েছে। কারণ ‘ইটা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান অর্থসংকটের কথা জানিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি রাফাহ থেকে বেইত হানুন পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করত।
নাওয়াফ বলেন, আগে প্রায় প্রতিদিনই পানিবাহী ট্রাক শিবিরের কাছাকাছি আসত, এতে কিছুটা স্বস্তি মিলত। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে সেই ট্রাকও বন্ধ রয়েছে। ফলে পানির জন্য সংগ্রাম দ্বিগুণ বেড়েছে।
তিনি জানান, ভিড় আর প্রতিযোগিতার কারণে তিনি কষ্টে মাত্র দুটি ছোট জেরিক্যান ভর্তি করতে পারেন। তার ভাষায়, “আমরা ক্ষুধায় মরেছি, এখন আমাদের তৃষ্ণায় মরতে বাধ্য করা হচ্ছে। দুটি জেরিক্যান আমার পরিবারের এক দিনের পানির চাহিদাও পূরণ করে না। পান করার পানিও রেশন করে ব্যবহার করতে হচ্ছে।”
বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, গ্রীষ্মকাল শুরু হওয়ায় এবং তাপমাত্রা বাড়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
নাওয়াফ বলেন, “তাঁবুর ভেতরের গরমের কষ্ট ভাষায় বোঝানো যাবে না। মনে হয় যেন গরম তাওয়ায় পুড়ছি। আমাদের বা শিশুদের রক্ষার মতো কোনো ছাদ নেই। এখন যদি পানিও না থাকে, তাহলে অবস্থা ভয়াবহ হবে।”
চরম পানি সংকটের প্রতিবাদে আল-মাওয়াসির বাসিন্দারা রাস্তায় নেমেছেন। গত ৫ এপ্রিল শনিবার শত শত বাস্তুচ্যুত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা দ্রুত পানীয়জল সংকট সমাধানের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীরা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, হাজারো শিশু ও বয়স্ক মানুষের জীবন রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশুদ্ধ পানি পাওয়া একটি মৌলিক মানবাধিকার।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সালাহ আল-কৌশ বলেন, আগে সীমিত আকারে হলেও পানি সরবরাহকারী ট্রাক চলত। এখন তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি সংগ্রহ করা দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
তিনি জানান, ১৩ সদস্যের তাঁর পরিবার এখন অতিরিক্ত লবণাক্ত ‘ব্যবহারযোগ্য পানি’ কিনে পান, রান্না ও দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে, যদিও এই পানি পান করার উপযোগী নয়।
তিনি বলেন, “বর্তমান সংকটে অনেকে দূষিত পানি ব্যবহার করছে। আমি আমার চার সন্তানকে নিয়ে আতঙ্কে আছি। প্রতিদিনই শিবিরে শিশুদের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।”
খান ইউনুসের পশ্চিমে অবস্থিত আল-মাওয়াসি একসময় ছিল স্বল্প জনবসতির কৃষি এলাকা। কিন্তু যুদ্ধের সময় এটিকে তথাকথিত ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ঘোষণা করা হলে লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষ সেখানে আশ্রয় নেয়। যদিও এলাকাটি নিজেও হামলার শিকার হয়েছে এবং বিপুল মানুষের থাকার মতো ন্যূনতম অবকাঠামোও নেই, তবুও হাজার হাজার মানুষ গাদাগাদি করে তাঁবুতে বসবাস করছে। জনসংখ্যার এই চাপ পানি সংকটকে ভয়াবহ করেছে। জাতিসংঘ ইতোমধ্যে এ পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে উল্লেখ করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজার অধিকাংশ মানুষ পর্যাপ্ত পানীয় জল পাচ্ছে না। তাদের ভাষায়, এই সংকট শুধু অনুমানযোগ্যই ছিল না, আগেই এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এটি আর শুধু যুদ্ধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে পানি সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে।
ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর বলেছে, বিশুদ্ধ পানির অভাব এখন বেসামরিক মানুষের জন্য জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করে বলেছেন, পানি ও খাদ্য বন্ধ করে দেওয়া এক ধরনের নীরব কিন্তু প্রাণঘাতী অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে গাজার মানুষকে সামান্য পানির জন্য দীর্ঘ পথ হাঁটতে হচ্ছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, এমনকি অনেক সময় অনিরাপদ এলাকায় গিয়ে জীবনঝুঁকি নিতে হচ্ছে। ফলে পানি এখন আর সাধারণ সেবা নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
কৃতজ্ঞতায়: আল জাজিরা
তারিখ : ৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং
সাইবার বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা: মুসলিমদের স্পাইওয়্যার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান
গাজার ‘হলুদ রেখা’ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে: যুদ্ধবিরতির আড়ালে কি গাজাকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করছে ইসরায়েল?
আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, হিজাব পরায় স্কুল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মুসলিম ছাত্রীদের
৭ অক্টোবরের পর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর সময় ফিলিস্তিনিরা কী সঙ্গে নিয়েছিলেন?
সিলেট দাওয়াহ এন্ড এডুকেশন সেন্টারের আয়োজনে বিশেষ নাসীহাহ সেশন অনুষ্ঠিত
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কীভাবে ক্যাথলিক যাজকদের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারকে পরিণত হলো
আল-আকসায় ‘মহাকায় সিজদা’ কী এবং কেন খেজুরের পাতা উঁচু করে ধরা হচ্ছে?
ইউরোপে কেন হঠাৎ নিকাব নিষিদ্ধের তোড়জোড়?
কিয়ামতের অন্যতম বড় নিদর্শন 'ধোঁয়া': সুন্নি আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা
মক্কা-মদিনায় হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে বিশ্বের মুসলিমরা: কায়কোবাদ
পবিত্র মক্কা অভিমুখে হুথিদের পাঠানো ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদি আরবের
ভারতে পশ্চিমবঙ্গের ২৫২টি মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ
গাজা যুদ্ধের প্রথম বছরেই ইসরায়েলের সাথে ১২৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি মাইক্রোসফটের
নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর খাদ্যাভ্যাস: সুস্থ জীবনের জন্য ১০টি উপকারী খাবার
মিডিয়ায় ইসলামের ওপর আক্রমণ: মুসলিম উম্মাহর করণীয়
সাইবার বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা: মুসলিমদের স্পাইওয়্যার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান
গাজার ‘হলুদ রেখা’ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে: যুদ্ধবিরতির আড়ালে কি গাজাকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করছে ইসরায়েল?
আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, হিজাব পরায় স্কুল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মুসলিম ছাত্রীদের
৭ অক্টোবরের পর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর সময় ফিলিস্তিনিরা কী সঙ্গে নিয়েছিলেন?
সিলেট দাওয়াহ এন্ড এডুকেশন সেন্টারের আয়োজনে বিশেষ নাসীহাহ সেশন অনুষ্ঠিত
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কীভাবে ক্যাথলিক যাজকদের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারকে পরিণত হলো
আল-আকসায় ‘মহাকায় সিজদা’ কী এবং কেন খেজুরের পাতা উঁচু করে ধরা হচ্ছে?
ইউরোপে কেন হঠাৎ নিকাব নিষিদ্ধের তোড়জোড়?
কিয়ামতের অন্যতম বড় নিদর্শন 'ধোঁয়া': সুন্নি আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা
মক্কা-মদিনায় হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে বিশ্বের মুসলিমরা: কায়কোবাদ
পবিত্র মক্কা অভিমুখে হুথিদের পাঠানো ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদি আরবের
ভারতে পশ্চিমবঙ্গের ২৫২টি মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ
গাজা যুদ্ধের প্রথম বছরেই ইসরায়েলের সাথে ১২৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি মাইক্রোসফটের
নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর খাদ্যাভ্যাস: সুস্থ জীবনের জন্য ১০টি উপকারী খাবার
মিডিয়ায় ইসলামের ওপর আক্রমণ: মুসলিম উম্মাহর করণীয়