ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ক্যাথলিক ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যখন শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে, তখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে ক্যাথলিক যাজকদের একটি অপ্রত্যাশিত নতুন উৎস গড়ে উঠেছে।
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে অবস্থিত সেন্ট পলস মেজর সেমিনারি বিশ্বের অন্যান্য তুলনীয় ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় ক্যাথলিক যাজক হওয়ার জন্য বেশি সংখ্যক প্রার্থী তৈরি করছে। এখানকার কিছু স্নাতক পরবর্তীতে আফ্রিকা থেকে ইউরোপ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের গির্জায় সেবা দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট দ্বীপটি থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেছে।
সাময়িকীটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বিচ্ছিন্ন কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দেখতে অনেকটা ছোট একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো। এখানে প্রশিক্ষণ নিতে প্রায় আট বছর সময় লাগে। প্রথম কয়েক বছর শিক্ষার্থীরা ধর্মতত্ত্বের চেয়ে দর্শন বিষয়ে বেশি সময় দেন। এরপর তারা ধর্মীয় ও সামাজিক সেবামূলক কাজে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে আবার ফিরে এসে যাজক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাদের ধর্মীয় শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
ধর্মপ্রচার কার্যক্রমের গতিপথে পরিবর্তন
ফ্লোরেসের গুরুত্ব এখানেই যে, এটি কয়েক শতাব্দী ধরে চলা একটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে। ষোড়শ শতাব্দীতে পর্তুগিজদের মাধ্যমে এই দ্বীপে ক্যাথলিক ধর্মের আগমন ঘটে। পরে ইউরোপীয় ধর্মপ্রচারকদের কার্যক্রমের মাধ্যমে সেখানে এই ধর্ম আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই একই দ্বীপ থেকে ক্যাথলিক যাজকেরা ইউরোপে ফিরে যাচ্ছেন, যে মহাদেশ থেকে একসময় ধর্মপ্রচারকেরা সেখানে এসেছিলেন।
২০২৪ সালে পোপ ফ্রান্সিস সতর্ক করে বলেছিলেন, কিছু দেশে ক্যাথলিক যাজক হওয়ার আগ্রহ প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এর দুই বছর আগে তিনি ইন্দোনেশিয়ার একটি দ্বীপকে এমন একটি অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, যেখানে যাজক হওয়ার প্রার্থীর সংখ্যা এখনো তুলনামূলকভাবে বেশি।
দ্য ইকোনমিস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ৪ হাজার ১৫০ জন ক্যাথলিক ধর্মীয় শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের অনেকেই লেদালেরোতে পড়াশোনা করতেন। বিপরীতে আয়ারল্যান্ডে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১০৪ জন।
বিশ্বের সামগ্রিক পরিসংখ্যান এই বৈপরীত্যকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। বিশ্বব্যাপী ক্যাথলিকদের সংখ্যা ১৪০ কোটিরও বেশি হয়েছে, যা ১৯৭০ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অথচ যাজকের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখের কাছাকাছি রয়ে গেছে।
গত অর্ধশতাব্দীতে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় যাজক হওয়ার প্রশিক্ষণ নেওয়া মানুষের সংখ্যা কমে গেছে। এর পেছনে ক্রমবর্ধমান ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ক্যাথলিক চার্চের অভ্যন্তরে যৌন নির্যাতনের কেলেঙ্কারির কারণে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বর্তমানে বিশ্বের ক্যাথলিক ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের ৬০ শতাংশেরও বেশি এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে আসছেন।
এর ফলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যাকে দ্য ইকোনমিস্ট ‘বিপরীতমুখী ধর্মপ্রচার’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। অর্থাৎ, একসময় ইউরোপীয় ধর্মপ্রচারকদের লক্ষ্য ছিল যেসব অঞ্চল, সেই অঞ্চলগুলোর যাজকেরাই এখন ইউরোপে ফিরে গিয়ে সেখানে যাজক সংকটে থাকা বিভিন্ন গির্জা ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সেবা করছেন।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের প্রধানত ক্যাথলিক একটি দ্বীপ
ইন্দোনেশিয়ার সামগ্রিক ধর্মীয় চিত্র থেকে ফ্লোরেস দ্বীপ অনেকটাই আলাদা। দ্য ইকোনমিস্টের তথ্য অনুযায়ী, দ্বীপটির প্রায় ২০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্যাথলিক এবং পুরো দ্বীপজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি গির্জা রয়েছে।
দ্বীপটির জনসংখ্যার এক-দশমাংশেরও বেশি মুসলিম। কিছু মুসলিম পরিবার ফ্লোরেসে তাদের পূর্বপুরুষদের আগমনের ইতিহাস পঞ্চদশ শতাব্দীর বণিকদের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করে।
সাময়িকীটি জানিয়েছে, মুসলিম ও ক্যাথলিকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের আন্তঃবিবাহ ও পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার পাঞ্চশীলার নীতির ভিত্তিতে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সহাবস্থানের একটি বিস্তৃত কাঠামোও গড়ে উঠেছে। এই নীতিতে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কখনো কখনো একই পরিবারের মধ্যেও এই ধর্মীয় সহাবস্থানের চিত্র দেখা যায়।
লেদালেরোর এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি মুসলিম বাবার সঙ্গে রমজানে রোজা রাখার পাশাপাশি ক্যাথলিক মায়ের সঙ্গে রোববারের প্রার্থনায় অংশ নিয়ে বড় হয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় একটি ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন।
তবে শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস বা অনুরাগের কারণেই তরুণেরা ক্যাথলিক ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছেন, বিষয়টি এমন নয়।
দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরেসে ধর্মপ্রচারক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী শিক্ষাগত সুনামসম্পন্ন স্কুল ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। শিক্ষার্থীরা ধর্মতত্ত্ব ও দর্শনের পাশাপাশি লাতিন, আরবি, জার্মান ও ইংরেজির মতো ভাষাও পড়াশোনা করেন।
দারিদ্র্যের উচ্চহারের মুখোমুখি থাকা এই দ্বীপে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা, ভ্রমণের সুযোগ এবং আর্থিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার পথও খুলে দিতে পারে। ফলে কিছু পরিবার তাদের সন্তানদের এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মূলত শিক্ষার সুযোগ পাওয়ার জন্য পাঠায়, তাদের যাজক হয়ে ওঠার প্রত্যাশা থেকেই যে পাঠায়, এমন নয়।
তবে এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
লেদালেরোর কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, অন্যান্য সমাজকে যেসব সামাজিক পরিবর্তন বদলে দিয়েছে, সেসব পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত ফ্লোরেসেও পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতা, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা সম্পর্কে পরিবর্তিত ধারণার প্রভাবও সেখানে বাড়তে পারে।
অনেক শিক্ষার্থী যাজক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই পড়াশোনা ছেড়ে দেন। দীর্ঘ সময়ের প্রশিক্ষণ, বাধ্যতামূলক অবিবাহিত জীবন এবং ক্যাথলিক যাজক হওয়ার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য কঠোর শর্তের কারণে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার আগেই এই পথ থেকে সরে যান।
তারিখ: ৪ অক্টোবর ২০২৬
কৃতজ্ঞতায়: SunnahFiles Web
সিলেট দাওয়াহ এন্ড এডুকেশন সেন্টারের আয়োজনে বিশেষ নাসীহাহ সেশন অনুষ্ঠিত
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কীভাবে ক্যাথলিক যাজকদের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারকে পরিণত হলো
আল-আকসায় ‘মহাকায় সিজদা’ কী এবং কেন খেজুরের পাতা উঁচু করে ধরা হচ্ছে?
ইউরোপে কেন হঠাৎ নিকাব নিষিদ্ধের তোড়জোড়?
কিয়ামতের অন্যতম বড় নিদর্শন 'ধোঁয়া': সুন্নি আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা
মক্কা-মদিনায় হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে বিশ্বের মুসলিমরা: কায়কোবাদ
পবিত্র মক্কা অভিমুখে হুথিদের পাঠানো ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদি আরবের
ভারতে পশ্চিমবঙ্গের ২৫২টি মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ
গাজা যুদ্ধের প্রথম বছরেই ইসরায়েলের সাথে ১২৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি মাইক্রোসফটের
নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর খাদ্যাভ্যাস: সুস্থ জীবনের জন্য ১০টি উপকারী খাবার
মিডিয়ায় ইসলামের ওপর আক্রমণ: মুসলিম উম্মাহর করণীয়
ভেনিসে মুসল্লিদের জুমার নামাজে উসকানি, বন্ধ মসজিদেও হামলার অভিযোগ
দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ দূর করতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো ৯টি দোয়া
ইসলামে তাওবা কবুলের ৫টি মৌলিক শর্ত
হিজাব পরলেই জরিমানা: ফ্রান্সে উগ্র ডানপন্থীদের নতুন পরিকল্পনার ছক
সিলেট দাওয়াহ এন্ড এডুকেশন সেন্টারের আয়োজনে বিশেষ নাসীহাহ সেশন অনুষ্ঠিত
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কীভাবে ক্যাথলিক যাজকদের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারকে পরিণত হলো
আল-আকসায় ‘মহাকায় সিজদা’ কী এবং কেন খেজুরের পাতা উঁচু করে ধরা হচ্ছে?
ইউরোপে কেন হঠাৎ নিকাব নিষিদ্ধের তোড়জোড়?
কিয়ামতের অন্যতম বড় নিদর্শন 'ধোঁয়া': সুন্নি আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা
মক্কা-মদিনায় হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে বিশ্বের মুসলিমরা: কায়কোবাদ
পবিত্র মক্কা অভিমুখে হুথিদের পাঠানো ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদি আরবের
ভারতে পশ্চিমবঙ্গের ২৫২টি মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ
গাজা যুদ্ধের প্রথম বছরেই ইসরায়েলের সাথে ১২৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি মাইক্রোসফটের
নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর খাদ্যাভ্যাস: সুস্থ জীবনের জন্য ১০টি উপকারী খাবার
মিডিয়ায় ইসলামের ওপর আক্রমণ: মুসলিম উম্মাহর করণীয়
ভেনিসে মুসল্লিদের জুমার নামাজে উসকানি, বন্ধ মসজিদেও হামলার অভিযোগ
দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ দূর করতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো ৯টি দোয়া
ইসলামে তাওবা কবুলের ৫টি মৌলিক শর্ত
হিজাব পরলেই জরিমানা: ফ্রান্সে উগ্র ডানপন্থীদের নতুন পরিকল্পনার ছক