মেলবোর্নের এক মুসলিম বাবা বলেছেন, তার শীতের জ্যাকেটটিই তাকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছে। স্থানীয় মসজিদের কাছে দুই ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার ঘটনাটি ঘটেছে হ্যাম্পটন পার্ক এলাকায়।
৪৩ বছর বয়সী তিন সন্তানের বাবা সামির রাঘবাতের ওপর ২০২৬ সালের ২৪ জুন মসজিদ থেকে কয়েক মিটার দূরের একটি গাড়ি রাখার স্থানে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে ঘুষি মারা, লাথি দেওয়া এবং ছুরির মতো একটি বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয় বলে জানা গেছে।
তিনি অস্ট্রেলিয়ার এবিসি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, হামলাকারীদের একজন বারবার তাকে জিজ্ঞেস করছিল, “তুমি কি মুসলিম?” এরপর আরেকজন তাকে “হত্যা করো” বলে নির্দেশ দেয় বলেও তিনি জানান।
রাঘবাতের পরনে ছিল ইসলামি থোবের ওপর একটি বড় আকারের মোটা শীতের জ্যাকেট। মসজিদে যাওয়ার সময় মুসলিম পুরুষদের মধ্যে এ ধরনের পোশাক পরার প্রচলন রয়েছে। তিনি জানান, ছুরির ফলাটি অল্পের জন্য তার শরীরে না লেগে জ্যাকেট ভেদ করে চলে যায়।
তিনি বলেন, “আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছেন। আমার জ্যাকেট আমাকে বাঁচিয়েছে।”
অস্ট্রেলিয়ার মুসলমানদের জন্য এই ঘটনা গভীর উদ্বেগের। একজন মুসলিম ব্যক্তি নামাজের পোশাক পরে মসজিদের কাছে যাওয়ার সময় মুসলিম হিসেবে পরিচিত হওয়ার পর হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এটি শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়। মুসলিম পরিচয়কে ঘিরে সমাজে যে ঘৃণার পরিবেশ ক্রমে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, এটি তার একটি সতর্কবার্তা।
নিজের মসজিদের কাছে বাবাকে মারধর
রাঘবাতের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি রাখার স্থানে একদল ব্যক্তি ময়লা ফেলে যাওয়ার পর তিনি তাদের কাছে গিয়ে জানতে চান তারা কী করছে। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার দাবি, “মুসলিমের মতো দেখতে” হওয়ার কারণেই তাকে হামলার শিকার হতে হয়েছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী অস্ট্রেলিয়ার এবিসি সংবাদমাধ্যমকে জানান, রাঘবাত নিজের মতো করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তারপরও হামলা চলতে থাকে।
অস্ট্রেলিয়ার এবিসি সংবাদমাধ্যম যে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছে বলে জানিয়েছে, তাতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি রাঘবাতের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কয়েকবার ঘুষি ও লাথি মারছে। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
রাঘবাত বলেন, একপর্যায়ে তার মনে হয়েছিল তিনি মারা যাবেন।
তিনি বলেন, “সে তিন মিনিট ধরে আমার ঘাড় ঝাঁকাচ্ছিল। আমি দুই-তিনবার চিৎকার করে বলেছি, ‘আমি শ্বাস নিতে পারছি না।’” পরে তাকে ড্যান্ডেনং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মুখে আঘাতের চিহ্ন, পায়ে ও পিঠে আঘাত এবং মানসিকভাবে প্রচণ্ড চাপের লক্ষণ দেখা যায়। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর তার আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে নিজের মেয়েও প্রথমে তাকে চিনতে পারেনি।
তিনি বলেন, “আমার মেয়ে যখন আমাকে দেখল, সে দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে কাঁদতে শুরু করল।” এই ঘটনাটি প্রতিটি বিবেকবান মানুষকে নাড়া দেওয়ার মতো।
ইসলামবিদ্বেষের প্রতিটি পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে একটি পরিবার। রয়েছে একটি শিশু, একজন স্ত্রী, একজন বাবা এবং একটি পুরো সম্প্রদায়। রয়েছে এমন একজন মানুষ, যিনি শুধু নামাজ পড়তে চান, নিরাপদে জীবনযাপন করতে চান এবং নিজের ধর্মের কারণে আক্রান্ত না হয়ে বাড়ি ফিরতে চান।
আজানের ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে কারও নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পাওয়া উচিত নয়
ভিক্টোরিয়ার ইসলামি পরিষদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনাটিকে সহিংস ও ভয়াবহ বলে আখ্যায়িত করেছে। পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, “শুধু নামাজের ডাকে সাড়া দেওয়ার কারণে কারও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পাওয়া উচিত নয়।”
তিনি আরও বলেন, নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় একজন মুসল্লির ওপর হামলা চালানোর ঘটনা ভিক্টোরিয়ার মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তার কথাতেই বোঝা যায়, ঘটনাটি কেন এত গুরুতর। একটি মসজিদ হওয়া উচিত শান্তি, ইবাদত ও নিরাপত্তার স্থান। এখানেই মুসলমানরা আল্লাহর সামনে সিজদা করেন, কুরআন শিক্ষা করেন, রমজানে একত্রিত হন, একে অপরকে সহযোগিতা করেন, শোকাহত মানুষকে সান্ত্বনা দেন এবং শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা দেন।
যখন কোনো মুসলমানকে তার প্রকাশ্য মুসলিম পরিচয়ের কারণে মসজিদের কাছে হামলার শিকার হতে হয়, তখন ক্ষতিটা শুধু ওই ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পুরো মুসলিম সমাজের মধ্যে ভয়ের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে।
অভিভাবকেরা ভাবতে শুরু করেন, সন্তানদের নামাজে নিয়ে যাওয়া নিরাপদ কি না। প্রবীণরা একা মসজিদে যাওয়ার সময় উদ্বিগ্ন হন। মুসল্লিরা নিজেদের পোশাক, দাড়ি, হিজাব, নাম এবং আরবি সালামের মতো বিষয় নিয়েও সচেতন হয়ে পড়েন।
এভাবেই ইসলামবিদ্বেষ কাজ করে। এটি শুধু মানুষের শরীরে আঘাত করে না, মুসলমানদের নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়কে কম দৃশ্যমান করতে চাপ সৃষ্টি করে।
অনলাইনের ঘৃণা বাস্তব জীবনের বিপদে পরিণত হচ্ছে
অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাব বাড়তে থাকার উদ্বেগের মধ্যেই রাঘবাতের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।স অস্ট্রেলিয়ার এবিসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ট্যাকলিং হেট ল্যাবের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর অস্ট্রেলিয়ায় অনলাইনে মুসলিমবিদ্বেষমূলক ঘৃণা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর বন্ডিতে সন্ত্রাসী হামলার পর তা আরও বেড়ে যায়।
গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগে অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিদিন গড়ে ১৮ দশমিক ২টি মুসলিমবিদ্বেষমূলক পোস্ট প্রকাশিত হতো। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ২২ মার্চ পর্যন্ত এই সংখ্যা বেড়ে প্রতিদিন গড়ে ১২১ দশমিক ৩টিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ ছয় গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়।
বন্ডির হামলার পর এই বৃদ্ধি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। হামলার পরের মাসে মুসলিমবিদ্বেষমূলক পোস্টের সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে ২০৫ দশমিক ৬ থেকে বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৯১৭ দশমিক ৯টিতে পৌঁছে।
শুধু হামলার দিনেই মুসলিমবিদ্বেষমূলক পোস্টের সংখ্যা ৭ হাজার ৭৮৬টিতে পৌঁছেছিল। এই সংখ্যাগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনলাইনের ঘৃণা শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ থাকে না।
যখন মুসলমানদের বারবার হুমকি, আগ্রাসী, সন্ত্রাসী কিংবা বহিরাগত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তখন কিছু মানুষ মুসলমানদের শরীর, মসজিদ ও পরিবারকে বৈধ হামলার লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবস্থাপনা এই পক্ষপাতকে আরও ছড়িয়ে দেয়। প্রভাবশালীরা ক্ষোভ ও উত্তেজনা থেকে অর্থ উপার্জন করে। রাজনৈতিক সুবিধাবাদীরা মানুষের ভয়কে কাজে লাগায়। আর শেষ পর্যন্ত এর মূল্য দিতে হয় সাধারণ মুসলমানদের। জনসমাগমের স্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল এবং রাস্তায় তাদেরই এর পরিণতি ভোগ করতে হয়।
এ কারণেই মুসলিমবিদ্বেষমূলক ঘৃণামূলক বক্তব্য সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আগেই তা গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা জরুরি।
ইসলামবিদ্বেষের অনেক ঘটনাই প্রকাশ্যে আসে না
ভিক্টোরিয়ার ইসলামি পরিষদও মুসলিমবিদ্বেষমূলক ঘটনার ব্যাপক বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার এবিসি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত পরিষদের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পরিষদের কাছে নথিভুক্ত মুসলিমবিদ্বেষমূলক ঘটনার সংখ্যা ৬৫০ শতাংশ বেড়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়েই অভিযোগের সংখ্যা তিন গুণের বেশি বেড়েছে। এই সময়ে বৃদ্ধির হার ছিল ২২৯ শতাংশ।
একই বছর পরিষদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৩ হাজার ১৪৫টি মুসলিমবিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও পোস্ট নথিভুক্ত করেছে। তবে এসব সংখ্যাও সমস্যার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। অনেক মুসলমান নির্যাতনের ঘটনা জানান না, কারণ তারা আশঙ্কা করেন যে কেউ তাদের বিশ্বাস করবে না। অনেকে মানসিকভাবে এতটাই ক্লান্ত যে অভিযোগ করার শক্তিও থাকে না। কেউ কেউ জানেন না কোথায় অভিযোগ করতে হবে। আবার অনেকে আশঙ্কা করেন, অভিযোগ করলে আরও বেশি নজরদারি, হয়রানি কিংবা কোনো কার্যকর ফল না পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার ইসলামবিদ্বেষ নথিভুক্তকারী প্রতিষ্ঠানও সতর্ক করেছে যে, অভিযোগ না করার প্রবণতা মুসলিমবিদ্বেষ মোকাবিলার অন্যতম বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক আয়েশা আলী জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগে তাদের কাছে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২ দশমিক ৫৩টি ঘটনা রিপোর্ট করা হতো।
ওই তারিখের পর তা বেড়ে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১৮ দশমিক ৯৭টি ঘটনায় দাঁড়ায় এবং এই উচ্চ হার এখনো অব্যাহত রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি মোট ২ হাজার ৬১৮টি অভিযোগ পেয়েছে। আয়েশা আলীর মতে, আগের বছরের তুলনায় এটি জাতীয় পর্যায়ে প্রায় ৬৫০ শতাংশ বৃদ্ধি। এটি কোনো প্রান্তিক সমস্যা নয়। এটি একটি জাতীয় সমস্যা।
অস্ট্রেলিয়াকে সৎভাবে মুসলিমবিদ্বেষের মুখোমুখি হতে হবে
অস্ট্রেলিয়া প্রায়ই বহুসাংস্কৃতিক সমাজ, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে গর্ব করে। কিন্তু মুসলিম নাগরিক ও বাসিন্দারা যদি নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পান, তাহলে এসব কথার অর্থ খুব সামান্যই থাকে।
রাঘবাতের ওপর হামলার ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়াকে এই বিষয়ে একটি সৎ ও জাতীয় আলোচনা শুরু করতে বাধ্য করা উচিত। মুসলিমবিদ্বেষ শুধু বিদেশের কোনো সমস্যা নয়। এটি শুধু ইউরোপ, আমেরিকা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যের ঘরেও সীমাবদ্ধ নয়। অস্ট্রেলিয়ার শহরতলি, রাস্তাঘাট এবং গাড়ি রাখার স্থানেও এটি রয়েছে।
মুসলিমবিদ্বেষ মোকাবিলায় বিশেষ দূত আফতাব মালিকের নেতৃত্বাধীন বিশেষ দূতের কার্যালয় সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি জাতীয় সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে।
আফতাব মালিক অস্ট্রেলিয়ার এবিসি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাগুলো ক্রমেই আরও বেপরোয়া, অস্বাভাবিক এবং সহিংস হয়ে উঠছে। এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া জরুরি।
রাজনৈতিক নেতা, গণমাধ্যম, পুলিশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারীদের অবমাননাকর ও মানবতাবিরোধী ভাষার সঙ্গে শারীরিক ক্ষতির সম্পর্কটি বুঝতে হবে।
যখন মুসলমানদের ক্রমাগত সন্দেহজনক, বিদেশি কিংবা বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরা হয়, তখন এর ফল সুস্থ বিতর্ক নয়। এর ফল হয় ভয়, বঞ্চনা এবং কখনো কখনো সহিংসতা।
মসজিদ কোনো হুমকি নয়
মসজিদের দিকে হেঁটে যাওয়া কোনো মানুষ হুমকি নয়। থোব পরা কোনো উসকানি নয়। স্থানীয় গাড়ি রাখার স্থানে ফেলে রাখা ময়লা নিয়ে প্রশ্ন করার কারণে একজন মুসলিম বাবাকে নিজের জীবনের জন্য লড়াই করতে হবে, এমনটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মুসলমানদের কাছে মসজিদ হলো আল্লাহর ঘর। এখানে ধনী ও দরিদ্র, তরুণ ও বৃদ্ধ, অভিবাসী ও অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণকারী সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একই কিবলার দিকে মুখ করে একই প্রতিপালকের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে কোনো ব্যক্তির ওপর হামলা করা মানে ইবাদতের মর্যাদার ওপরও আঘাত করা। রাঘবাত বলেছেন, এখন তিনি নিজের এলাকায় নিজেকে নিরাপদ মনে করেন না। অস্ট্রেলিয়ায় এমন একটি হামলার ঘটনা ঘটতে পারে, এ বিষয়টি তাকে মানসিকভাবেও গভীরভাবে বিপর্যস্ত করেছে। তার কষ্টকে কেবল একটি দিনের সংবাদ হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
ঈমান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা
অস্ট্রেলিয়ার মুসলমানদের নিরাপদ থাকার জন্য নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় লুকিয়ে রাখতে বাধ্য করা উচিত নয়। নিরাপত্তার জন্য তাদের ইসলামি পোশাক খুলে ফেলতে হবে না, মসজিদে যাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে না, সালাম দেওয়ার সময় কণ্ঠস্বর নিচু করতে হবে না এবং মুসলমানদের জড়িত কোনো বৈশ্বিক সংকটের পর প্রতিবার নিজেদের মানুষ হিসেবে প্রমাণ দিতে হবে না।
তারা নিরাপত্তার অধিকার রাখেন, কারণ তারা মানুষ। তারা সুরক্ষার অধিকার রাখেন, কারণ তারা সমাজের সদস্য। তারা মর্যাদার অধিকার রাখেন, কারণ আল্লাহ আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছেন।
প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট হওয়া উচিত। ইসলামবিদ্বেষের ঘটনা জানাতে হবে, ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াতে হবে, মসজিদগুলোকে সুরক্ষা দিতে হবে, মুসলিমবিদ্বেষী প্রচারণার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে এবং সহিংস অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তবে মুসলমানদের প্রতিক্রিয়াও ঈমানের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। ভয়ের কারণে মুসলমানদের আল্লাহর ঘর থেকে দূরে সরে যাওয়া উচিত নয়। ঘৃণার কারণে তাদের ইসলাম নিয়ে লজ্জিত হওয়া উচিত নয়। সহিংসতার কারণে এমন সত্যকে নীরব করে দেওয়া উচিত নয় যে মুসলমানের জীবন, ইবাদত এবং মর্যাদার মূল্য রয়েছে।
সামির রাঘবাত বেঁচে গেছেন। কিন্তু তার গল্প উপেক্ষা করা উচিত নয়। তার ঘটনা অস্ট্রেলিয়াকে মনে করিয়ে দেবে যে ইসলামবিদ্বেষ এখন আর শুধু কথার বিষয় নয়। এটি ক্রমেই মানুষের নিরাপত্তা, রক্ত এবং বেঁচে থাকার বিষয় হয়ে উঠছে।
১০ আগস্ট ২০২৬
কৃতজ্ঞতায় SunnahFiles Web
মেলবোর্নে মসজিদের কাছে মুসলিম বাবার ওপর হামলা, অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ
ফ্রান্সে মসজিদ বন্ধ: মুসলিম সমাজে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের আতঙ্ক
স্কুলে যাওয়ার আগে শিশুকে টয়লেট ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিতে হবে: যুক্তরাজ্যে অভিভাবকদের জন্যও টয়লেট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা
যা আল্লাহর হাতে, তা আল্লাহর কাছেই ছেড়ে দিন
কিয়ামতের অন্যতম বড় আলামত: দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ ও তার ফিতনা থেকে মুক্তির পথ
গাজা যুদ্ধ বন্ধে একের পর এক উদ্যোগ, কিন্তু কেন বারবার ব্যর্থ হলো আলোচনা?
ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশ গাজা শান্তি পরিষদ চুক্তির শর্তাবলি
মুসলিম তরুণদের জন্য সূরা আল-কাহফের ৫টি অনুপ্রেরণাদায়ক শিক্ষা
যুক্তরাজ্যে প্রতি পাঁচ দিনেই একটি মসজিদে হামলা: বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ, শঙ্কায় মুসলিম সমাজ
লন্ডনে AMTC-এর উদ্যোগে উদ্যোক্তা ও ফাউন্ডার মিটিং অনুষ্ঠিত
উইঘুর মুসলিমদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় হুমকিতে ফেলছে চীনের নতুন আইন
ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করো
যুক্তরাজ্যে তাবলিগের ইজতেমায় হামলার আশঙ্কায় ডজনখানেক সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা; আহত ৬
গাজায় আবারও যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত ইসরায়েলের
মেলবোর্নে মসজিদের কাছে মুসলিম বাবার ওপর হামলা, অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ
ফ্রান্সে মসজিদ বন্ধ: মুসলিম সমাজে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের আতঙ্ক
স্কুলে যাওয়ার আগে শিশুকে টয়লেট ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিতে হবে: যুক্তরাজ্যে অভিভাবকদের জন্যও টয়লেট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা
যা আল্লাহর হাতে, তা আল্লাহর কাছেই ছেড়ে দিন
কিয়ামতের অন্যতম বড় আলামত: দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ ও তার ফিতনা থেকে মুক্তির পথ
গাজা যুদ্ধ বন্ধে একের পর এক উদ্যোগ, কিন্তু কেন বারবার ব্যর্থ হলো আলোচনা?
ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশ গাজা শান্তি পরিষদ চুক্তির শর্তাবলি
মুসলিম তরুণদের জন্য সূরা আল-কাহফের ৫টি অনুপ্রেরণাদায়ক শিক্ষা
যুক্তরাজ্যে প্রতি পাঁচ দিনেই একটি মসজিদে হামলা: বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ, শঙ্কায় মুসলিম সমাজ
লন্ডনে AMTC-এর উদ্যোগে উদ্যোক্তা ও ফাউন্ডার মিটিং অনুষ্ঠিত
উইঘুর মুসলিমদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় হুমকিতে ফেলছে চীনের নতুন আইন
ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করো
যুক্তরাজ্যে তাবলিগের ইজতেমায় হামলার আশঙ্কায় ডজনখানেক সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা; আহত ৬
গাজায় আবারও যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত ইসরায়েলের