২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা বারবার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু প্রতিটি উদ্যোগই ইসরায়েলের অনমনীয় অবস্থানের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে হামাস শুরু থেকেই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কিছু নির্দিষ্ট শর্তের ওপর জোর দিয়ে এসেছে।
মধ্যস্থতাকারী, প্রস্তাব ও আলোচনার ধরন বদলালেও মূল বিরোধ অপরিবর্তিত ছিল। হামাস স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা দাবি করেছে। বিপরীতে ইসরায়েলি সরকার ঘোষণা করেছে যে, তারা তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার অধিকার নিজেদের হাতে রাখতে চায়। এই লক্ষ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল হামাসের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা।
এই দুই অবস্থানের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করে বারবার আলোচনা চালানো হলেও সেগুলো অচলাবস্থায় পড়ে। কিছু প্রস্তাব সংশোধন করা হয়েছিল, কিছু প্রস্তাবের ফলে সাময়িক চুক্তি হয়েছিল এবং কয়েকটি প্রস্তাব বাস্তবায়নের আগেই ভেঙে পড়েছিল।
শেষ পর্যন্ত এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার দিকে গিয়ে পৌঁছায়। এর ফল হিসেবে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যদিও ইসরায়েলি সরকার প্রতিদিনই এই চুক্তি লঙ্ঘন করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
২৪ নভেম্বর ২০২৩: প্রথম অস্থায়ী চুক্তি
২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলি সরকার এবং হামাস একটি অস্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছায়। এই চুক্তির আওতায় বন্দি বিনিময়, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গাজার সব অঞ্চলে জ্বালানিবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে চুক্তিটি মাত্র চার দিন স্থায়ী হয়। এরপর ইসরায়েলি সরকার এর মেয়াদ বাড়ানোর প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করে এবং পুনরায় যুদ্ধ শুরু হয়।
২৮ জানুয়ারি ২০২৪: প্যারিস প্রস্তাব
২০২৪ সালের ২৮ জানুয়ারি মিসর, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক থেকে একটি নতুন প্রস্তাব উত্থাপিত হয় তিনটি ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য এই পরিকল্পনায় চার মাসের যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে সব ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে হামাসকে আন্তর্জাতিক গ্যারান্টিও দেওয়া হয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই আশ্বাসও অন্তর্ভুক্ত ছিল যে গাজায় যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি করা সম্ভব হবে।
হামাস এই প্রস্তাব গ্রহণ করে এবং স্পষ্ট করে জানায় যে এটি অবশ্যই যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। তবে ইসরায়েলি সরকার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। তাদের দাবি ছিল, এটি হামাসকে নির্মূল করার লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে না।
৩১ মে ২০২৪: বাইডেনের তিন ধাপের পরিকল্পনা
২০২৪ সালের ৩১ মে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুদ্ধবিরতি এবং সব বন্দির মুক্তির জন্য একটি বিস্তৃত ইসরায়েলি প্রস্তাব ঘোষণা করেন। তিন ধাপের এই পরিকল্পনায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়। বাইডেন এটিকে যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা এবং গাজার সব জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের একটি রূপরেখা হিসেবে বর্ণনা করেন।
তবে হামাস জানায়, তারা স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা দিয়ে কোনো লিখিত অঙ্গীকার পায়নি। হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা ওসামা হামদান বলেন, হামাস যে প্যারিস প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল, সেটি প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি আড়াল করতেই বাইডেন এই ঘোষণা দিয়েছেন। ইসরায়েলি সরকার পরিকল্পনার সামগ্রিক কাঠামো মেনে নিলেও যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে।
১০ জুন ২০২৪: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৭৩৫ নম্বর প্রস্তাব
২০২৪ সালের ১০ জুন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ২৭৩৫ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণ করে। এতে বাইডেনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয় এবং তিন ধাপে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। হামাস এই প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে সম্মতি জানায়। তবে ইসরায়েলি সরকার প্রস্তাবটির কিছু অংশ বেছে বেছে গ্রহণ করে এবং তা বাস্তবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানায়।
১৫ জানুয়ারি ২০২৫: তিন ধাপের যুদ্ধবিরতি চুক্তি
২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলি সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি, গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করা। চুক্তিটি ১৯ জানুয়ারি কার্যকর হয়। প্রথম ধাপের ৪২ দিনের মেয়াদ ২০২৫ সালের ১ মার্চ শেষ হয়। তবে দ্বিতীয় ধাপ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। ইসরায়েলি সরকার প্রথম ধাপের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়, যাতে দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ না করেই বন্দি বিনিময় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া যায়।
হামাস এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং মূল চুক্তি অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের দাবি জানায়। ইসরায়েল প্রথমে সীমান্ত ক্রসিংগুলো বন্ধ করে চুক্তি লঙ্ঘন করে। পরে তারা বোমা হামলা আরও জোরদার করে এবং শেষ পর্যন্ত পূর্ণ মাত্রায় যুদ্ধ পুনরায় শুরু করে।
৮ অক্টোবর ২০২৫: ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা
২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর ঘোষিত এই পরিকল্পনাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম উদ্যোগ, যেখানে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে যুদ্ধ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। পরে এটি একটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য চুক্তিতে রূপ নেয় এবং ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়।
এই পরিকল্পনায় হামাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস অথবা তাদের নিরস্ত্র করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই বিষয়টিই পরিকল্পনার সবচেয়ে বিতর্কিত অংশে পরিণত হয়।
হামাস জানিয়ে দেয়, অস্ত্রসংক্রান্ত যেকোনো আলোচনা দখলদারিত্বের অবসান এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হতে হবে। অন্যদিকে ইসরায়েল জোর দিয়ে বলে যে নিরস্ত্রীকরণই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত।
ইসরায়েলি সরকার চুক্তির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়। তারা মানবিক সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে দেয়, গাজার বাইরে যাতায়াত সীমিত করে এবং প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতাদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করতে থাকে।
এ ছাড়া ইসরায়েল বারবার দাবি করে যে দ্বিতীয় ধাপের অষ্টম অনুচ্ছেদ কার্যকর করতে হবে, যেখানে বিভিন্ন গোষ্ঠীর অস্ত্র জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অথচ তারা নিজেরাই প্রথম ধাপের শর্ত পূরণ করেনি।
২৯ জুলাই ২০২৬: ম্লাদেনভ পরিকল্পনা
২০২৬ সালের ২৯ জুলাই হামাস এবং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের অন্যান্য গোষ্ঠী শান্তি পরিষদের উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করা। ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিকল্পনার সব ধারা নিয়ে একটি ঐকমত্যে পৌঁছায়। এর মধ্যে গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং অস্ত্রসংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিচালনার পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তারিখ: ২ আগস্ট ২০২৬
কৃতজ্ঞতায়: SunnahFiles Web
সাইবার বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা: মুসলিমদের স্পাইওয়্যার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান
গাজার ‘হলুদ রেখা’ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে: যুদ্ধবিরতির আড়ালে কি গাজাকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করছে ইসরায়েল?
আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, হিজাব পরায় স্কুল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মুসলিম ছাত্রীদের
৭ অক্টোবরের পর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর সময় ফিলিস্তিনিরা কী সঙ্গে নিয়েছিলেন?
সিলেট দাওয়াহ এন্ড এডুকেশন সেন্টারের আয়োজনে বিশেষ নাসীহাহ সেশন অনুষ্ঠিত
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কীভাবে ক্যাথলিক যাজকদের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারকে পরিণত হলো
আল-আকসায় ‘মহাকায় সিজদা’ কী এবং কেন খেজুরের পাতা উঁচু করে ধরা হচ্ছে?
ইউরোপে কেন হঠাৎ নিকাব নিষিদ্ধের তোড়জোড়?
কিয়ামতের অন্যতম বড় নিদর্শন 'ধোঁয়া': সুন্নি আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা
মক্কা-মদিনায় হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে বিশ্বের মুসলিমরা: কায়কোবাদ
পবিত্র মক্কা অভিমুখে হুথিদের পাঠানো ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদি আরবের
ভারতে পশ্চিমবঙ্গের ২৫২টি মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ
গাজা যুদ্ধের প্রথম বছরেই ইসরায়েলের সাথে ১২৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি মাইক্রোসফটের
নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর খাদ্যাভ্যাস: সুস্থ জীবনের জন্য ১০টি উপকারী খাবার
মিডিয়ায় ইসলামের ওপর আক্রমণ: মুসলিম উম্মাহর করণীয়
সাইবার বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা: মুসলিমদের স্পাইওয়্যার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান
গাজার ‘হলুদ রেখা’ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে: যুদ্ধবিরতির আড়ালে কি গাজাকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করছে ইসরায়েল?
আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, হিজাব পরায় স্কুল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মুসলিম ছাত্রীদের
৭ অক্টোবরের পর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর সময় ফিলিস্তিনিরা কী সঙ্গে নিয়েছিলেন?
সিলেট দাওয়াহ এন্ড এডুকেশন সেন্টারের আয়োজনে বিশেষ নাসীহাহ সেশন অনুষ্ঠিত
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কীভাবে ক্যাথলিক যাজকদের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারকে পরিণত হলো
আল-আকসায় ‘মহাকায় সিজদা’ কী এবং কেন খেজুরের পাতা উঁচু করে ধরা হচ্ছে?
ইউরোপে কেন হঠাৎ নিকাব নিষিদ্ধের তোড়জোড়?
কিয়ামতের অন্যতম বড় নিদর্শন 'ধোঁয়া': সুন্নি আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা
মক্কা-মদিনায় হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে বিশ্বের মুসলিমরা: কায়কোবাদ
পবিত্র মক্কা অভিমুখে হুথিদের পাঠানো ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদি আরবের
ভারতে পশ্চিমবঙ্গের ২৫২টি মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ
গাজা যুদ্ধের প্রথম বছরেই ইসরায়েলের সাথে ১২৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি মাইক্রোসফটের
নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর খাদ্যাভ্যাস: সুস্থ জীবনের জন্য ১০টি উপকারী খাবার
মিডিয়ায় ইসলামের ওপর আক্রমণ: মুসলিম উম্মাহর করণীয়