হিব্রু ভাষার সংবাদপত্র হারেৎজ গাজাকে ঘিরে একটি প্রস্তাবিত চুক্তির বিভিন্ন শর্ত প্রকাশ করেছে। এই চুক্তিতে সামরিক অভিযান বন্ধ, ধাপে ধাপে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকাশিত নথিতে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া, নতুন প্রশাসন গঠন, ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং দখলদার বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
চুক্তির শর্তাবলি
রাজনৈতিক কাঠামো গ্রহণ
সব পক্ষ ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবকে বাধ্যতামূলক কাঠামো হিসেবে গ্রহণ করবে।
এই কাঠামোর মধ্যে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, সংগঠনটির মধ্যে থেকে উগ্রবাদ নির্মূল করার উদ্যোগ এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ
ইসরায়েল, হামাস এবং অন্যান্য গোষ্ঠী সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করবে। সময়সূচি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত হওয়ার পর গাজা প্রশাসনের জাতীয় কমিটি গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করবে এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ শুরু করবে। অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে পরিকল্পনার প্রতিটি ধাপে অগ্রসর হওয়া আগের ধাপের পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে। শান্তি পরিষদ একটি আন্তর্জাতিক যাচাই কমিটি গঠন করবে। এই কমিটি পরবর্তী ধাপ শুরু হওয়ার আগে উভয় পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে কি না, তা যাচাই করবে।
প্রশাসনিক কমিটির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর
সব বেসামরিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রশাসনিক ক্ষমতা গাজা প্রশাসনের জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হবে। হামাস এবং অন্যান্য গোষ্ঠী প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকার করবে এবং সরকারি, সামরিক কিংবা বেসামরিক যেকোনো ধরনের ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়াবে।
জনসেবা অব্যাহত রাখা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা
সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের পর গাজা প্রশাসনিক কমিটি সব ধরনের জনসেবা চালু রাখার ব্যবস্থা করবে। একই সঙ্গে কমিটি গাজার আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন করবে, সরকারি সম্পদ রক্ষা ও পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করবে এবং জমে থাকা ঋণ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে।
এক কর্তৃপক্ষ, এক আইন এবং এক অস্ত্রনীতি
প্রশাসনিক কমিটিই হবে একমাত্র কর্তৃপক্ষ, যার হাতে অস্ত্র থাকবে এবং যারা আইন প্রয়োগের ক্ষমতা রাখবে। এই কমিটি ফিলিস্তিনি আইন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে পরিচালিত হবে। পুরো নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াটি "এক কর্তৃপক্ষ, এক আইন এবং এক অস্ত্র" নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
পুলিশ বাহিনী
গাজার পুলিশ সদস্যদের যাচাই-বাছাই করা হবে। অনুমোদিত সদস্যদের প্রশাসনিক কমিটির অধীন পুলিশ বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যারা এই যাচাই প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হবেন না, তাদের বেসামরিক চাকরি দেওয়া হবে অথবা অবসরে পাঠানো হবে। পুলিশ বাহিনীর সব অস্ত্র প্রশাসনিক কমিটির নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।
ভারী অস্ত্র ধ্বংস
আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী সম্পূর্ণভাবে মোতায়েন হওয়ার পর আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে ভারী অস্ত্র, সুড়ঙ্গ, অস্ত্র তৈরির কারখানা এবং অস্ত্র ভান্ডার ধ্বংস করা হবে। এই প্রক্রিয়াটি ইসরায়েলি বাহিনীর ধীরে ধীরে প্রত্যাহার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিলুপ্তির পাশাপাশি চলবে। কোনো অস্ত্র ইসরায়েল কিংবা ফিলিস্তিনের বাইরের কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে না। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর কেবল প্রশাসনিক কমিটির কাছেই অস্ত্র থাকবে।
ব্যক্তিগত অস্ত্র
ব্যক্তিগত অস্ত্র ফিলিস্তিনি আইন অনুসারে নিয়ন্ত্রিত হবে। অস্ত্র নিবন্ধন, লাইসেন্স প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট আইন কার্যকর করার একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রশাসনিক কমিটির হাতে থাকবে। আইনে হালকা অস্ত্র নিবন্ধন ও লাইসেন্স দেওয়ার সুযোগ রাখা হবে, তবে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল রাখার অনুমতি দেওয়া হবে না।
সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিলুপ্তি
ইসরায়েলের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করা হবে এবং তাদের অস্ত্র প্রশাসনিক কমিটির কাছে জমা দেওয়া হবে। এসব গোষ্ঠীর সদস্যদের প্রশাসনিক কমিটির পুলিশ বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
সামাজিক শান্তিচুক্তি
অভ্যন্তরীণ সহিংসতা, শক্তি প্রদর্শন, সামরিক কুচকাওয়াজ এবং সশস্ত্র সমাবেশ অবিলম্বে বন্ধ করার লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এই চুক্তির উদ্দেশ্য হবে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রতিরোধ করা।
আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী
ইসরায়েলি বাহিনী এবং প্রশাসনিক কমিটির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার মধ্যে বিভাজনরেখা তৈরি করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
এই বাহিনী যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করবে, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেবে এবং প্রশাসনিক কমিটিকে নিরাপদে দায়িত্ব পালন করতে সহায়তা করবে। তবে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে কোনো নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা এই বাহিনীর থাকবে না। এসব দায়িত্ব প্রশাসনিক কমিটির হাতেই থাকবে।
ধাপে ধাপে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার
নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি যাচাইয়ের ভিত্তিতে ইসরায়েল ধাপে ধাপে গাজা উপত্যকা থেকে নিজেদের বাহিনী প্রত্যাহার করবে। নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে কাউকে জোরপূর্বক গাজা ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হবে না।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব
গাজা উপত্যকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আইন প্রয়োগের একমাত্র দায়িত্ব প্রশাসনিক কমিটির ওপর ন্যস্ত থাকবে। তবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সীমার বাইরে থাকা হুমকির ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব প্রযোজ্য হবে না।
গাজার পুনর্গঠন
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে শান্তি পরিষদ এবং প্রশাসনিক কমিটির তত্ত্বাবধানে গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এই পরিকল্পনার আওতায় সম্পদ ও অর্থায়নের ব্যবস্থাপনাও নিয়ন্ত্রিত হবে।
সাইবার বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা: মুসলিমদের স্পাইওয়্যার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান
গাজার ‘হলুদ রেখা’ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে: যুদ্ধবিরতির আড়ালে কি গাজাকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করছে ইসরায়েল?
আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, হিজাব পরায় স্কুল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মুসলিম ছাত্রীদের
৭ অক্টোবরের পর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর সময় ফিলিস্তিনিরা কী সঙ্গে নিয়েছিলেন?
সিলেট দাওয়াহ এন্ড এডুকেশন সেন্টারের আয়োজনে বিশেষ নাসীহাহ সেশন অনুষ্ঠিত
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কীভাবে ক্যাথলিক যাজকদের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারকে পরিণত হলো
আল-আকসায় ‘মহাকায় সিজদা’ কী এবং কেন খেজুরের পাতা উঁচু করে ধরা হচ্ছে?
ইউরোপে কেন হঠাৎ নিকাব নিষিদ্ধের তোড়জোড়?
কিয়ামতের অন্যতম বড় নিদর্শন 'ধোঁয়া': সুন্নি আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা
মক্কা-মদিনায় হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে বিশ্বের মুসলিমরা: কায়কোবাদ
পবিত্র মক্কা অভিমুখে হুথিদের পাঠানো ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদি আরবের
ভারতে পশ্চিমবঙ্গের ২৫২টি মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ
গাজা যুদ্ধের প্রথম বছরেই ইসরায়েলের সাথে ১২৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি মাইক্রোসফটের
নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর খাদ্যাভ্যাস: সুস্থ জীবনের জন্য ১০টি উপকারী খাবার
মিডিয়ায় ইসলামের ওপর আক্রমণ: মুসলিম উম্মাহর করণীয়
সাইবার বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা: মুসলিমদের স্পাইওয়্যার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান
গাজার ‘হলুদ রেখা’ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে: যুদ্ধবিরতির আড়ালে কি গাজাকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করছে ইসরায়েল?
আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, হিজাব পরায় স্কুল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মুসলিম ছাত্রীদের
৭ অক্টোবরের পর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর সময় ফিলিস্তিনিরা কী সঙ্গে নিয়েছিলেন?
সিলেট দাওয়াহ এন্ড এডুকেশন সেন্টারের আয়োজনে বিশেষ নাসীহাহ সেশন অনুষ্ঠিত
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কীভাবে ক্যাথলিক যাজকদের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারকে পরিণত হলো
আল-আকসায় ‘মহাকায় সিজদা’ কী এবং কেন খেজুরের পাতা উঁচু করে ধরা হচ্ছে?
ইউরোপে কেন হঠাৎ নিকাব নিষিদ্ধের তোড়জোড়?
কিয়ামতের অন্যতম বড় নিদর্শন 'ধোঁয়া': সুন্নি আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা
মক্কা-মদিনায় হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে বিশ্বের মুসলিমরা: কায়কোবাদ
পবিত্র মক্কা অভিমুখে হুথিদের পাঠানো ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদি আরবের
ভারতে পশ্চিমবঙ্গের ২৫২টি মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ
গাজা যুদ্ধের প্রথম বছরেই ইসরায়েলের সাথে ১২৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি মাইক্রোসফটের
নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর খাদ্যাভ্যাস: সুস্থ জীবনের জন্য ১০টি উপকারী খাবার
মিডিয়ায় ইসলামের ওপর আক্রমণ: মুসলিম উম্মাহর করণীয়