রমজানের শুরুতে খুব কম পর্যবেক্ষকই ধারণা করেছিলেন যে আল-আকসা মসজিদে পরিস্থিতি এতটা উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছাবে। পবিত্র মাসের আগে ইসরাইলের হুমকিগুলো মূলত মুসল্লিদের সংখ্যা কমানো, বিশেষ করে পশ্চিম তীর থেকে আগতদের ইতিকাফ বন্ধ করা এবং রমজানেও ধারাবাহিক অনুপ্রবেশ চালিয়ে যাওয়ার ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল। তবে প্রকাশ্যে যা বলা হয়নি, তা হলো রমজানের মধ্যেই আল-আকসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক ও মিডিয়া কাঠামো ভেঙে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। দখলদার কর্তৃপক্ষ রমজানকে বছরের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময় হিসেবে দেখে। এই মাসে কোনো বিধিনিষেধ কার্যকর করতে পারলে তা সারা বছর সহজে বহাল রাখা যায়।
ইসলামিক ওয়াকফ প্রশাসনকে টার্গেট
উত্তেজনার শুরু হয় ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ দিয়ে। ইসরাইলি পুলিশ ওয়াকফের পরিচালক আজ্জাম আল-খতিবকে পুরনো শহরের প্রধান থানা ‘আল-কিশলা’-তে তলব করে। ওয়াকফ প্রশাসনের মতে, এটি একটি রাজনৈতিক নজির তৈরির চেষ্টা যার মাধ্যমে বিভাগটিকে দখলদার কর্তৃপক্ষের অধীনস্থ করা এবং মসজিদের ওপর ইসরাইলি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা। তাই ধারণা করা হয়েছিল, আল-খতিব এ তলব প্রত্যাখ্যান করবেন। পুলিশও সেই সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত ছিল। এরপর তারা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়।
ছাতা প্রবেশে বাধা, রমজানের প্রস্তুতির জন্য আঙিনা প্রস্তুতকরণে বাধা, একমাত্র মেডিকেল ক্লিনিক চালু করতে বাধা, ইফতার ও সাহরির খাবার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা। ফলে সাধারণ মানুষকে সীমিত খাবার আলাদাভাবে নিয়ে আসতে হয় এবং অফিসিয়াল ক্লিনিকের বদলে অস্থায়ী মোবাইল ক্লিনিকের ওপর নির্ভর করতে হয়। রমজানের আগেই দখলদার বাহিনী রাতে ওয়াকফ অফিসে অভিযান চালায়, বাব আল-রহমার কাছে দারুল হাদিসের তালা ভেঙে দেয় এবং প্রায় এক হাজার জেরুজালেমবাসীর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ওয়াকফ পরিচালকের ওপর বারবার থানায় হাজিরার চাপকে জর্ডান-সম্পৃক্ত ওয়াকফ প্রশাসনকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষকে একমাত্র কর্তৃত্ব হিসেবে স্বীকার করতে বাধ্য করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি হলে আল-আকসার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ খুলে যাবে।
ইতিহাসে আগেও এমন চেষ্টা
১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পরও ইসরাইল ওয়াকফ ভেঙে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তখন শায়খ আবদুল হামিদ আল-সায়েহ ও অন্যান্য আলেমদের অবস্থান ধর্মঘট ও সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিল গঠনের মাধ্যমে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে প্রশাসন আবার ইসলামিক ওয়াকফের কাছে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়। জেরুজালেমে মিডিয়া দমন বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, রমজানেও মুসলমানদের জন্য আল-আকসা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়িসরায়েল কাটজ কয়েকটি জেরুজালেমভিত্তিক ফিলিস্তিনি মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম আল-বাওসালা, আল-আসিমা, মিরাজ, আল-মায়াদিন ও কুদস প্লাস নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এসব প্ল্যাটফর্ম আল-আকসার পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরত। কাটজ দাবি করেন, এগুলো হামাস-সম্পৃক্ত এবং উসকানিমূলক কার্যক্রম চালায়। সমালোচকদের মতে, এ সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য কঠোর পদক্ষেপের আগে প্রত্যক্ষদর্শী ও তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করা।
সরাসরি ইসরাইলি প্রশাসন?
বর্তমান সরকার যা ২০২২ সাল থেকে ধর্মীয় জায়নবাদী ও উগ্র মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত আল-আকসার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ হিসেবে এই সময়কে দেখছে। ইসরাইল ইতিমধ্যে ‘টেম্পল মাউন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ নামে একটি কাঠামো গঠন করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আল-খলিলের ইবরাহিমি মসজিদের মতো আল-আকসার প্রশাসনও সরাসরি এই কাঠামোর হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা আসতে পারে।
যুদ্ধের আড়ালে বন্ধের ঝুঁকি
বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে জরুরি অবস্থার অজুহাতে আল-আকসা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে আল-আকসা বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে রমজানে এমন পদক্ষেপের প্রতীকী ও বাস্তব প্রভাব অনেক বেশি হবে। রমজানের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে মসজিদ বন্ধ করে দিলে দখলদার কর্তৃপক্ষ স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে পারবে বিশেষ করে যদি বড় জনসমাগম বাধাগ্রস্ত হয়। সবশেষে বিশ্লেষকদের মতে, একমাত্র যে বিষয়টি এই পরিকল্পনা ব্যাহত করতে পারে, তা হলো আল-আকসায় ধারাবাহিক জনসমাগম ও সম্মিলিত প্রতিরোধ। গণইচ্ছাশক্তিই এখন পুরো পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক শক্তি।
২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
কৃতজ্ঞতায় sunnafile web
আল-আকসা মসজিদ কি শিগগিরই বন্ধ হতে যাচ্ছে?
গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে সুদানের দুর্ভিক্ষ: ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে রমজানের আগমন
গাজায় “দ্য ভ্যাপোরাইজড”: এক অনুসন্ধানে এমন ইসরায়েলি অস্ত্রের তথ্য উঠে এসেছে, যা হাজারো ফিলিস্তিনিকে নিশ্চিহ্ন
নেতানিয়াহুর বন্ধুর কবজায় টিকটক: অ্যালগরিদমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই
গাজা এখন “আল-মসীহ আদ-দাজ্জাল”-এর শাসনের অধীনে
ইহুদি ধর্মগ্রন্থ, জায়নবাদ ও মুসলিমদের জন্য সচেতন পাঠ: ইতিহাস, আদর্শ ও বাস্তবতার মুখোমুখি
ইজরায়েলি সংসদে গাজা বাস্তুচ্যুতি এজেন্ডা: ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দিতে নতুন পরিকল্পনার আলোচনা
সিলেট দা’ওয়াহ সেন্টারে নাসীহাহ সেশন: সবার জন্য দ্বীন শিক্ষায় মসজিদ কেন্দ্রিক উদ্যোগের আহ্বান
হালাল অ্যাওয়ারনেস নেটওয়ার্কের নির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত
যুক্তরাজ্যে বাড়ছে তরুণ মেধাবীদের দেশত্যাগের প্রবণতা
লন্ডনে তা'লিমুল কুরআন মসজিদের ১২তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল সম্পন্ন
সিম্পল রিজনের উদ্যোগে সিলেটে দিনমজুরদের মাঝে দা’ওয়াহ কার্যক্রম ও ফুডপ্যাক বিতরণ সম্পন্ন
ইসলামের চিন্তা ও একদল ভুল মানুষ
হামলা যেদিকে আসে মোকাবিলাও সেদিকে করতে হয়
শায়খে বাঘা রহ.’এর নামে পাকিস্তানে মসজিদ নির্মাণ করছে সিম্পল রিজন চ্যারিটি
আল-আকসা মসজিদ কি শিগগিরই বন্ধ হতে যাচ্ছে?
গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে সুদানের দুর্ভিক্ষ: ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে রমজানের আগমন
গাজায় “দ্য ভ্যাপোরাইজড”: এক অনুসন্ধানে এমন ইসরায়েলি অস্ত্রের তথ্য উঠে এসেছে, যা হাজারো ফিলিস্তিনিকে নিশ্চিহ্ন
নেতানিয়াহুর বন্ধুর কবজায় টিকটক: অ্যালগরিদমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই
গাজা এখন “আল-মসীহ আদ-দাজ্জাল”-এর শাসনের অধীনে
ইহুদি ধর্মগ্রন্থ, জায়নবাদ ও মুসলিমদের জন্য সচেতন পাঠ: ইতিহাস, আদর্শ ও বাস্তবতার মুখোমুখি
ইজরায়েলি সংসদে গাজা বাস্তুচ্যুতি এজেন্ডা: ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দিতে নতুন পরিকল্পনার আলোচনা
সিলেট দা’ওয়াহ সেন্টারে নাসীহাহ সেশন: সবার জন্য দ্বীন শিক্ষায় মসজিদ কেন্দ্রিক উদ্যোগের আহ্বান
হালাল অ্যাওয়ারনেস নেটওয়ার্কের নির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত
যুক্তরাজ্যে বাড়ছে তরুণ মেধাবীদের দেশত্যাগের প্রবণতা
লন্ডনে তা'লিমুল কুরআন মসজিদের ১২তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল সম্পন্ন
সিম্পল রিজনের উদ্যোগে সিলেটে দিনমজুরদের মাঝে দা’ওয়াহ কার্যক্রম ও ফুডপ্যাক বিতরণ সম্পন্ন
ইসলামের চিন্তা ও একদল ভুল মানুষ
হামলা যেদিকে আসে মোকাবিলাও সেদিকে করতে হয়
শায়খে বাঘা রহ.’এর নামে পাকিস্তানে মসজিদ নির্মাণ করছে সিম্পল রিজন চ্যারিটি