দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলে তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’র আশপাশে ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থানগুলো বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য এমন এক সীমানায় পরিণত হয়েছে, যা তাঁদের নিজেদের ঘরবাড়ি, জীবিকা এবং ক্রমেই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থেকেও বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে।
এই রেখার কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য যুদ্ধবিরতি নিরাপত্তা কিংবা বাস্তুচ্যুতির অবসান কোনোটিই নিশ্চিত করতে পারেনি। বরং ইসরায়েলি সেনাদের চলাচল, ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং বারবার পরিবর্তিত ভূখণ্ডের সীমানা এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে পুরো জনগোষ্ঠীকে আবারও নিজেদের বসতি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।
হলুদ রেখার কাছাকাছি একটি বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবিরে গত বৃহস্পতিবার আকস্মিক হামলায় ১৭টি ফিলিস্তিনি পরিবার সবকিছু হারিয়েছে। খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ধারাবাহিকভাবে অগ্নিসংযোগকারী গোলা নিক্ষেপ করা হলে তাদের তাঁবু ও জিনিসপত্রে আগুন ধরে যায়। ফলে পরিবারগুলোকে প্রায় নিঃস্ব অবস্থায় পায়ে হেঁটে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালিয়ে যেতে হয়।
শিবিরটির বাসিন্দা ফিদা আবু জামেয়া আল-জাজিরা নেটকে জানান, হামলার পর তাঁদের সামনে জীবন বাঁচিয়ে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
আরেক বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা মুসা আবু সা'দা বলেন, পরিবারগুলোকে নিজেদের সবকিছু ফেলে রেখে থাকার মতো কোনো জায়গার সন্ধানে বের হতে হয়েছে। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম জিনিসপত্রও তাঁদের কাছে ছিল না।
হলুদ রেখা পশ্চিম দিকে সরে যাচ্ছে
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হলুদ রেখা এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও সামরিক বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণের সীমানায় বারবার পরিবর্তন এসেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধান এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিবরণে উঠে এসেছে।
হলুদ রেখাটি চিহ্নিত করতে হলুদ রঙে রাঙানো বড় বড় কংক্রিটের খণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এসব চিহ্ন শুরুতে যে অবস্থানে স্থাপন করা হয়েছিল, সেখানে সেগুলো আর স্থির থাকেনি।
ইসরায়েলি বাহিনী কংক্রিটের খণ্ডগুলো পশ্চিম দিকে সরিয়ে নেওয়া, সামরিক প্রতিবন্ধক ও অবস্থান তৈরি করা এবং বাড়িঘর ও আবাসিক এলাকা ধ্বংস করার সঙ্গে সঙ্গে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য বসবাসযোগ্য ভূখণ্ড ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।
এসব ঘটনায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপিত সেনা প্রত্যাহার ও পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত গাজাকে স্থায়ীভাবে ভৌগোলিকভাবে বিভক্ত করে ফেলতে পারে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকার ভেতরে একটি নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলতে এবং নিজেদের সেনাদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করতে শুরু করে। ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সেনাবাহিনী জানায়, ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশে তারা সরাসরি মাঠপর্যায়ে হলুদ রেখা চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। নির্ধারিত সীমানা বরাবর হলুদ কংক্রিটের খণ্ড স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের এসব চিহ্নের কাছে যেতে নিষেধ করা হয়।
তবে পরবর্তী অনুসন্ধানগুলোতে প্রশ্ন ওঠে, ইসরায়েলি বাহিনী চুক্তিতে নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই অবস্থান করছে কি না। ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত বিবিসির এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, যুদ্ধবিরতির মানচিত্রে দেখানো সীমানার বাইরেও কংক্রিটের চিহ্ন স্থাপন করা হয়েছে।
উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ার আতাতরা এলাকায় এসব চিহ্ন নির্ধারিত রেখার প্রায় ৫০০ মিটার বাইরে স্থাপন করা হয়েছিল। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে এই ব্যবধান ছিল প্রায় ২৯০ মিটার। এরপরও এই সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানগুলো পূর্ব গাজা শহরের তুফফাহ এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার ভেতরে এগিয়ে যায়। বিবিসির উদ্ধৃত পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগের ও নতুন সামরিক অবস্থানের মধ্যবর্তী এলাকায় অন্তত ৪০টি ভবন ধ্বংস করা হয়।
শুরুতে যে সীমানাকে সামরিক অবস্থান নির্ধারণের রেখা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেটির সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সেই পথের আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলোও ক্রমাগত ধ্বংস হতে থাকে।
গাজার অধিকাংশ এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর চিহ্নগুলো শত শত মিটার পশ্চিম দিকে সরিয়ে নেওয়ার আরও প্রমাণ পাওয়া যায়। কিছু হলুদ কংক্রিটের খণ্ড আগের অবস্থান থেকে প্রায় ৩৯০ মিটার দূরে চলে গিয়েছিল। অন্যগুলো এগিয়ে গিয়েছিল প্রায় ২২০ মিটার।
এই পরিবর্তনের সঙ্গে একই সময়ে বেশ কিছু ভবন ধ্বংস করা হয় এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের বসবাসের দুটি শিবির ভেঙে ফেলা হয়। ২৮ জানুয়ারি জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তর জানায়, হলুদ রেখা বরাবর মাটি সমতল করা ও ভবন ধ্বংসের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই সম্প্রসারণ কেবল কংক্রিটের চিহ্ন সরিয়ে নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না।
২০২৬ সালের মে মাসে জাতিসংঘকে জানানো হয়, পরে ‘কমলা রেখা’ নামে পরিচিত হওয়া আরেকটি সীমানা অতিক্রম করার সময় মানবিক সহায়তাকর্মীদের ইসরায়েলের সঙ্গে নিজেদের চলাচল সমন্বয় করতে হবে। এই অতিরিক্ত সীমানা হলুদ রেখার সংলগ্ন এলাকাগুলোতে চলাচলের ওপর আরও বিধিনিষেধ তৈরি করে। ফলে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর কাজ আরও জটিল হয়ে পড়ে।
একই মাসে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থা সতর্ক করে জানায়, গাজা শহর ও খান ইউনিসে হলুদ রেখার বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের সংস্থাটির পাঁচটি স্থাপনা তখন সামরিক এলাকার কাছাকাছি চলে আসে। এর মধ্যে দুটি স্কুলও ছিল, যেগুলোতে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছিল। গাজার মধ্যাঞ্চলের নেতজারিম করিডরের আশপাশ, তুফফাহ এলাকা এবং মাগাজি ও বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি সামরিক যান হলুদ রেখার পশ্চিমে এগিয়ে যেতেও দেখা যায়।
২০২৬ সালের জুলাই নাগাদ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও বেসামরিক নাগরিকদের সাক্ষ্যে পূর্ব গাজা শহরের জেইতুন, তুফফাহ ও শুজাইয়া এলাকা এবং দেইর আল-বালাহ, খান ইউনিস ও রাফাহর কিছু অংশে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ আরও সম্প্রসারিত হওয়ার তথ্য উঠে আসে।
এর সঙ্গে সীমানা চিহ্নের আরও স্থান পরিবর্তন এবং নতুন করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নিজেই ভূখণ্ডের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণের ব্যাপ্তি স্বীকার করে। ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ওয়েবসাইটে গাজা ডিভিশনের কমান্ডার লিরন বাতিতোর বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়। তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকার ৬৩ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।
বাতিতো আরও জানান, সেনাবাহিনী সেখানে ৪০টি নতুন সামরিক অবস্থান তৈরি করেছে। তাঁর ভাষায়, এসব অবস্থান ইসরায়েলি বাহিনীকে ‘অভিযান পরিচালনার স্বাধীনতা’ দিচ্ছে।”
তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার প্রায় এক বছর পরও গাজার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার হিসাব, গাজার ৭০ শতাংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ধারণা, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দেওয়া পরিসংখ্যানের চেয়েও দেশটির নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ডের পরিমাণ বেশি হতে পারে।
ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার গাজা শাখার পরিচালক মাহা আল-হুসেইনি আল-জাজিরা নেটকে বলেন, বর্তমানে গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ ভূখণ্ড ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আল-হুসেইনির ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঠিক পরপর এই হার ছিল ৫৩ শতাংশ।
এর অর্থ, ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন গাজার ভূখণ্ডের আনুমানিক অনুপাত ১৭ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে। তিনি বলেন, গাজার মোট আয়তন প্রায় ৩৬০ বর্গকিলোমিটার হলেও বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে সর্বোচ্চ ১২০ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে।
অন্যভাবে বললে, আনুমানিক ২০ লাখ মানুষকে গাজার মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। আল-হুসেইনি ব্যাখ্যা করেন, যুদ্ধবিরতির প্রথম কয়েক সপ্তাহ থেকেই ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য উপলব্ধ জায়গা কমতে শুরু করে।
তাঁর মতে, ইসরায়েলি বাহিনী কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা ছাড়াই ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে হলুদ রেখার অবস্থান পরিবর্তন করেছে। একই সময়ে বোমাবর্ষণ এবং আশপাশের এলাকাগুলো ধ্বংস করার ফলে বাসিন্দারা আরও পশ্চিম দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়া কেবল সেনাদের অবস্থান পুনর্বিন্যাসের বিষয় নয়। এর মাধ্যমে গাজার জনসংখ্যাকে ক্রমেই সংকুচিত একটি ভৌগোলিক এলাকায় কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে।
সামরিক চৌকি, সড়ক নির্মাণ ও বাড়িঘর ধ্বংস
আল-দামির মানবাধিকার সংস্থার পরিচালক আলা আল-সকাফ বলেন, তাঁর সংস্থার গবেষকেরা গাজা উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে হলুদ রেখার সম্প্রসারণের তথ্য নথিভুক্ত করেছেন। আল-জাজিরা নেটকে তিনি জানান, ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় ৩৮টি সামরিক অবস্থান ও ব্যারাক স্থাপন করেছে। এর অধিকাংশই উঁচু ভূমিতে অবস্থিত। সেনাদের চলাচলের সুবিধার্থে সামরিক সড়কও তৈরি করা হয়েছে এবং যোগাযোগের টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে ওই রেখা বরাবর নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা আরও বেড়েছে।
আল-সকাফের হিসাব অনুযায়ী, হলুদ রেখার বাইরে অবস্থিত বাড়িঘরের ৯৫ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসামরিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কিছু এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ভেতরে চার থেকে ছয় কিলোমিটার পর্যন্ত প্রবেশ করেছে। সামরিক স্থাপনা, নতুন সড়ক, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং ব্যাপকভাবে বাড়িঘর ধ্বংসের এসব ঘটনা ইসরায়েলের ভূখণ্ডসংক্রান্ত ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
এসব এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য বাড়িঘর ও প্রয়োজনীয় সেবা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো, ইসরায়েলি বাহিনী ভবিষ্যতে প্রত্যাহার করে নিলেও তাঁরা আদৌ নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
রাফাহ থেকে খান ইউনিস: আবাসিক এলাকায় পৌঁছে গেছে হলুদ রেখা
দক্ষিণ গাজার রাফাহ ও খান ইউনিস এলাকায় সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-আমুর আল-জাজিরা নেটকে বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী এক বছরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বিস্তার স্পষ্টভাবে বেড়েছে।
তিনি বলেন, এই পরিবর্তন ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান এবং বেসামরিক নাগরিকদের চলাচলের পথ, উভয়কেই প্রভাবিত করেছে। ইসরায়েলি সেনারা রাফাহ ও খান ইউনিসে কয়েক শ মিটার এগিয়ে যাওয়ায় বহু পরিবারকে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে।
গাজার আরও উত্তরে মধ্যাঞ্চলে সাংবাদিক ইউসুফ রাইয়ান হলুদ রেখা এবং ইসরায়েলি সামরিক যানগুলোর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার চিত্র নথিভুক্ত করেছেন। দেইর আল-বালাহর পূর্ব প্রান্ত থেকে বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের উত্তর-পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত করিডর বরাবর এই সম্প্রসারণ বিশেষভাবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
রাইয়ান বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর এই অগ্রযাত্রার সঙ্গে বাড়িঘর ও অবকাঠামো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে নুসেইরাত, মাগাজি ও বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্বাঞ্চলের জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর আরও কাছে চলে এসেছে সামরিক অবস্থানগুলো।
আগে যেসব বাড়ি সামরিক সংঘাতের রেখা থেকে কয়েক শ মিটার দূরে ছিল, সেগুলোর অনেকগুলো এখন ইসরায়েলি অবস্থানের অনেক কাছাকাছি চলে এসেছে। সীমানার এই পরিবর্তনের ফলে পরিবারগুলোকে মধ্য গাজার পশ্চিমাঞ্চলের দিকে সরে যেতে হয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে দেইর আল-বালাহ, নুসেইরাত ও জাওয়াইদার কিছু অংশ। এর প্রভাব পড়েছে গভর্নরেটটির পূর্বাঞ্চলের কৃষিজমিতেও।
আগে এসব এলাকায় বাসিন্দারা ঘনবসতিপূর্ণ পশ্চিমাঞ্চলের তুলনায় বেশি জায়গা নিয়ে বসবাস ও কাজ করতে পারতেন। কিন্তু ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব এলাকায় প্রবেশাধিকার ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে বাড়িঘর নির্মাণ ও জীবিকা নির্বাহের জন্য বেসামরিক নাগরিকদের হাতে থাকা জমির পরিমাণও কমে যাচ্ছে।
উত্তর গাজায় জনবসতির মধ্য দিয়ে চলে গেছে হলুদ রেখা
উত্তর গাজার পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, হলুদ রেখা আগের অবস্থান থেকে কতটা এগিয়ে এসেছে। মাঠপর্যায়ের সাংবাদিক হাম্মাম আসালিয়া আল-জাজিরা নেটকে বলেন, বেশ কয়েকটি স্থানে রেখাটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঢুকে পড়েছে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়া শহর ও শরণার্থী শিবিরের কিছু অংশ, শেখ জায়েদ এলাকা এবং বেইত লাহিয়ার কিছু অংশ এর মধ্যে পড়ে গেছে।
এসব এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত অগ্রযাত্রার কারণে সামরিক তৎপরতা বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিকদের আরও কাছে চলে এসেছে। আসালিয়া বলেন, ইসরায়েলি সামরিক যান ও প্রকৌশল সরঞ্জাম ব্যবহার করে পরিচালিত বাহিনীর ইউনিটগুলো বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু লক্ষ্য করে গুলি চালানো অব্যাহত রেখেছে। পূর্ব গাজা শহরে ভূখণ্ডের ওপর এর প্রভাব বিশেষভাবে গুরুতর।
শহরটির সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ তিনটি এলাকা জেইতুন, তুফফাহ ও শুজাইয়ার মধ্য দিয়ে এখন হলুদ রেখা বিস্তৃত হয়েছে। জেইতুনের পূর্বাঞ্চল এখন নিষিদ্ধ সামরিক এলাকায় পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চল ইসরায়েলি ড্রোন ও সামরিক যান থেকে চালানো গোলাগুলির ঝুঁকিতে রয়েছে। তুফফাহ এলাকার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চল, এখন হলুদ রেখার মধ্যে পড়ে গেছে। শুজাইয়ার পুরো এলাকাই হলুদ রেখার আওতায় ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। এর অর্থ, সামরিক সীমানাটি আর শুধু গাজার পূর্ব প্রান্তে সীমাবদ্ধ নেই।
বিভিন্ন স্থানে এটি সরাসরি পুরোনো আবাসিক এলাকাগুলোর মধ্য দিয়ে চলে গেছে। ফলে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, সড়ক এবং বাস্তুচ্যুত হওয়ার আগে তাঁরা যেখানে বসবাস করতেন, সেসব এলাকায় প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে পড়েছে।
নিরাপত্তার বাইরে অন্য উদ্দেশ্য: ইসরায়েল কি স্থায়ী বিভাজন তৈরি করছে?
সামরিক বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল সামির আবাহরার মতে, হলুদ রেখা এমন একটি পরিস্থিতির প্রতিফলন, যা সাময়িক নিরাপত্তাব্যবস্থার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
তিনি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ডের ক্রমবিস্তার, সামরিক অবস্থান ও পর্যবেক্ষণকেন্দ্র নির্মাণের ধারাবাহিকতা এবং বাড়িঘর ও অবকাঠামো ধ্বংসের বিষয়গুলোকে এর প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আল-জাজিরা নেটকে আবাহরা বলেন, হলুদ রেখার অব্যাহত সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য উপলব্ধ ভূখণ্ড সংকুচিত হওয়ার বিষয়টি এমন পরিস্থিতি তৈরির প্রচেষ্টার প্রতিফলন, যা একবার প্রতিষ্ঠিত হলে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে।
তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে, এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত না থাকায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে। তাঁর মূল্যায়নে, সামরিক পরিস্থিতির এই পরিবর্তনকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ থেকে আলাদা করে দেখা যায় না।
আবাহরা ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকার সঙ্গে দেশটির কট্টর ডানপন্থীদের অবস্থান এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক হিসাবের সম্পর্ক তুলে ধরেন। নেতানিয়াহু গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছেন। তাঁর যুক্তি, গাজাকে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার ঝুঁকির মধ্যে রেখে দেওয়া ইসরায়েলের প্রকাশ্যে ঘোষিত নিরাপত্তার লক্ষ্যগুলোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও পূরণ করে।
এই সামরিক বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ইসরায়েল গাজায় নিজেদের পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে অস্ত্র সমর্পণে বাধ্য করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখে। ইসরায়েল গাজায় নিজেদের অব্যাহত সামরিক উপস্থিতি ও অভিযানকে নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার যুক্তিতে ব্যাখ্যা করেছে। কিন্তু ভূখণ্ডের ব্যাপক সম্প্রসারণ, সামরিক অবকাঠামো স্থাপন এবং আবাসিক এলাকা ধ্বংসের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে যে, হলুদ রেখা সাময়িক যুদ্ধবিরতির সীমানা ছাড়িয়ে আরও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থায় পরিণত হতে পারে।
ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ৬৩ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণের কথা স্বীকার করেছে। অন্যদিকে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, এই হার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
এ অবস্থায় মূল প্রশ্নটি আর শুধু এই নয় যে, হলুদ রেখাটি প্রথমে কোথায় নির্ধারণ করা হয়েছিল। বরং প্রশ্ন হলো, রেখাটির অব্যাহত স্থান পরিবর্তন কি গাজা উপত্যকাকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করার ভিত্তি তৈরি করছে, যেখানে লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে নিজেদের ভূমির ক্রমেই সংকুচিত একটি অংশে আটকে থাকতে হচ্ছে?
তারিখ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬
কৃতজ্ঞতায়: SunnaFiles Web
গাজার ‘হলুদ রেখা’ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে: যুদ্ধবিরতির আড়ালে কি গাজাকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করছে ইসরায়েল?
আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, হিজাব পরায় স্কুল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মুসলিম ছাত্রীদের
৭ অক্টোবরের পর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর সময় ফিলিস্তিনিরা কী সঙ্গে নিয়েছিলেন?
সিলেট দাওয়াহ এন্ড এডুকেশন সেন্টারের আয়োজনে বিশেষ নাসীহাহ সেশন অনুষ্ঠিত
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কীভাবে ক্যাথলিক যাজকদের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারকে পরিণত হলো
আল-আকসায় ‘মহাকায় সিজদা’ কী এবং কেন খেজুরের পাতা উঁচু করে ধরা হচ্ছে?
ইউরোপে কেন হঠাৎ নিকাব নিষিদ্ধের তোড়জোড়?
কিয়ামতের অন্যতম বড় নিদর্শন 'ধোঁয়া': সুন্নি আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা
মক্কা-মদিনায় হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে বিশ্বের মুসলিমরা: কায়কোবাদ
পবিত্র মক্কা অভিমুখে হুথিদের পাঠানো ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদি আরবের
ভারতে পশ্চিমবঙ্গের ২৫২টি মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ
গাজা যুদ্ধের প্রথম বছরেই ইসরায়েলের সাথে ১২৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি মাইক্রোসফটের
নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর খাদ্যাভ্যাস: সুস্থ জীবনের জন্য ১০টি উপকারী খাবার
মিডিয়ায় ইসলামের ওপর আক্রমণ: মুসলিম উম্মাহর করণীয়
ভেনিসে মুসল্লিদের জুমার নামাজে উসকানি, বন্ধ মসজিদেও হামলার অভিযোগ
গাজার ‘হলুদ রেখা’ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে: যুদ্ধবিরতির আড়ালে কি গাজাকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করছে ইসরায়েল?
আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, হিজাব পরায় স্কুল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মুসলিম ছাত্রীদের
৭ অক্টোবরের পর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর সময় ফিলিস্তিনিরা কী সঙ্গে নিয়েছিলেন?
সিলেট দাওয়াহ এন্ড এডুকেশন সেন্টারের আয়োজনে বিশেষ নাসীহাহ সেশন অনুষ্ঠিত
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কীভাবে ক্যাথলিক যাজকদের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারকে পরিণত হলো
আল-আকসায় ‘মহাকায় সিজদা’ কী এবং কেন খেজুরের পাতা উঁচু করে ধরা হচ্ছে?
ইউরোপে কেন হঠাৎ নিকাব নিষিদ্ধের তোড়জোড়?
কিয়ামতের অন্যতম বড় নিদর্শন 'ধোঁয়া': সুন্নি আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা
মক্কা-মদিনায় হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে বিশ্বের মুসলিমরা: কায়কোবাদ
পবিত্র মক্কা অভিমুখে হুথিদের পাঠানো ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদি আরবের
ভারতে পশ্চিমবঙ্গের ২৫২টি মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ
গাজা যুদ্ধের প্রথম বছরেই ইসরায়েলের সাথে ১২৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি মাইক্রোসফটের
নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর খাদ্যাভ্যাস: সুস্থ জীবনের জন্য ১০টি উপকারী খাবার
মিডিয়ায় ইসলামের ওপর আক্রমণ: মুসলিম উম্মাহর করণীয়
ভেনিসে মুসল্লিদের জুমার নামাজে উসকানি, বন্ধ মসজিদেও হামলার অভিযোগ