মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ আজারবাইজানের বিভিন্ন স্কুলে ইসলামি হিজাব পরার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মাথায় হিজাব পরার কারণে স্কুলছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া হিজাব পরার কারণে একজন নারী শিক্ষককেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় আজারবাইজানের বাইরেও সমালোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে প্রতিবেশী তুরস্কে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপর্যস্ত ছাত্রীদের ভিডিও এবং প্রতিবাদরত পরিবারের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
আজারবাইজানের স্কুলগুলোতে ধর্মীয় পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং দেশটির কঠোর ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। সমালোচকদের মতে, এসব বিধিনিষেধ সোভিয়েত আমলের সেই চর্চার প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যখন প্রকাশ্যে ধর্মীয় আচার পালন দমন করা হতো এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ব্যাপক রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হতো।
হিজাব পরা ছাত্রীদের স্কুল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ভিডিও ছড়িয়ে ক্ষোভ
কর্মীদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুল কর্তৃপক্ষ হিজাব পরা মেয়েকে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় একজন বাবা স্কুলের বাইরে থেকে তাঁর মেয়েকে নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওতে উপস্থিত একজন ব্যক্তিকে ছাত্রীদের সঙ্গে এমন আচরণ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করতে শোনা যায়।
তিনি বলেন, “দেখুন, ওরা কী করছে। হিজাব পরা প্রত্যেক মেয়েকেই বের করে দেওয়া হচ্ছে।”
অন্য একটি ভিডিওতে আজারবাইজানের এক নিহত সেনাসদস্যের মেয়েকে দেখা যায়। কারাবাখ পুনর্দখলের লড়াইয়ে ওই সেনাসদস্য নিহত হয়েছিলেন।
হিজাব পরা ওই স্কুলছাত্রী ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে বাধা দেওয়াকে অন্যায় বলে উল্লেখ করে। সে জানায়, তাকেও স্কুলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
অন্য ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, স্কুল থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর হিজাব পরা ছাত্রীরা কান্না করছে।
ভিডিওগুলোর সঙ্গে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, ছাত্রীরা স্কুলের নির্ধারিত পোশাকবিধি মেনেছিল। তা সত্ত্বেও মাথায় হিজাব রাখার কারণে তাদের স্কুলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, ধর্মীয় পোশাক পরার কারণে শিক্ষার্থীদের কেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হবে?
সহপাঠীদের সমর্থনে বাকুতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ
এই বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছে। রাজধানী বাকুর একটি স্কুলে হিজাব পরা সহপাঠীদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা স্কুলের ফটকের বাইরে জড়ো হয় এবং শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানায় বলে খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের হাতে বিধিনিষেধের শিকার ছাত্রীদের প্রতি সমর্থন জানানো বিভিন্ন লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড ছিল।
তাদের এই বিক্ষোভ স্কুল কর্তৃপক্ষ ও কয়েকটি পরিবারের মধ্যকার বিরোধকে ছাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর সংহতির প্রকাশে পরিণত হয়।
ধর্মীয় অনুশীলনের কারণে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার পরিণতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব সম্প্রদায়ের কাছে হিজাব ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, সেখানে এ বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
হিজাবের বিধিনিষেধের নিন্দা জানালেন আজারবাইজানি অভিনেত্রী, স্মরণ করলেন হায়দার আলিয়েভের দৃষ্টিভঙ্গি
আজারবাইজানের বিশিষ্ট অভিনেত্রী ইবাদোভা কোয়ামাজও ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে হিজাব পরা অবস্থায় দেখা যায়। হিজাব পরা স্কুলছাত্রীদের বিরুদ্ধে চলমান পদক্ষেপের প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তিনি এভাবে হাজির হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজের শৈশব এবং অতীতে কিছু সম্প্রদায়ের মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে যেসব বাধার মুখোমুখি হতে হতো, সেসব স্মৃতির কথা তুলে ধরেন।
তিনি লেখেন, “আমরা যখন ছোট মেয়ে ছিলাম, সেই দিনগুলোর কথা আমি কখনো ভুলব না। আমাদের শ্রেণিকক্ষ ও স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ছিল ছেলে। বাকুর কিছু গ্রামে সমস্যা ছিল, কারণ অভিভাবকেরা তাঁদের মেয়েদের স্কুলে পাঠাতেন না।”
এরপর তিনি আজারবাইজানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হায়দার আলিয়েভের একটি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই উদ্যোগ পরিবারগুলোকে মেয়েদের হিজাব পরা থাকুক বা না থাকুক, তাদের শিক্ষিত করে তোলার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছিল।
তিনি লেখেন, “একদিন ঘোষণা করা হলো, আমাদের জাতীয় নেতা, আল্লাহ যাঁর প্রতি রহম করুন, বাকুর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আমরা সবাই গভীর আগ্রহ নিয়ে জাতীয় টেলিভিশনের পর্দার দিকে তাকিয়ে ছিলাম।”
তিনি আরও লেখেন, “আমাদের জাতীয় মূল্যবোধ, ধর্ম ও সমাজের প্রতি হায়দার আলিয়েভের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল ও পরিশীলিত।” অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।
তিনি বলেন, “সেই বৈঠকের পর আমাদের স্কুল ও শ্রেণিকক্ষগুলো আবার প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। কারণ, তখন সবাই নিজেদের মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে শুরু করেন, তারা হিজাব পরুক কিংবা না পরুক।”
তাঁর বক্তব্যে বর্তমান বিতর্ককে অতীতের এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে আসা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা তাঁর মতে ধর্মীয় রীতিনীতির প্রতি সম্মান বজায় রেখেই মেয়েদের শিক্ষাকে উৎসাহিত করেছিল।
হিজাবের বিধিনিষেধ সমাজকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে পারে, লেখিকার সতর্কতা
আজারবাইজানি লেখিকা ও অধিকারকর্মী নিগার ওগেদায় সুসমারাম আরও কঠোর ভাষায় এই বিধিনিষেধের সমালোচনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ বিতর্ক সরকার ও জনগণের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, আজারবাইজানের ভেতরে সক্রিয় কিছু শত্রুভাবাপন্ন শক্তি ইসলামি ধর্মীয় অনুশীলনকে লক্ষ্য করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে জনগণকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।
সুসমারাম সতর্ক করে বলেন, আজারবাইজানকে তার ধর্মীয় ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে একটি বিপজ্জনক সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি লেখেন, “কর্মকর্তাদের এই ভূমিকা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ এবং ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ বন্ধ করা না হলে, জায়নবাদ আজারবাইজানকে গভীর অতল গহ্বরে টেনে নিয়ে যাবে।” তিনি সরাসরি প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তিনি লেখেন, “অনুগ্রহ করে, জনাব প্রেসিডেন্ট, যারা আমাদের সরকারি পদগুলো, শিক্ষাব্যবস্থা ও গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিচ্ছে, তাদের থামান। আমি নিশ্চিত, আপনার একটি নির্দেশই জনগণকে জেগে উঠতে এবং আপনার সামনে বিশ্বাসঘাতকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে যথেষ্ট হবে।”
দেশটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নীতির ওপর জায়নবাদী স্বার্থের প্রভাব রয়েছে বলেও তিনি যে দাবি করেছেন, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “যে দেশের জনসংখ্যার ৯৫ শতাংশ মুসলিম, সেই দেশের মূল্যবোধ মুষ্টিমেয় কয়েকজন জায়নবাদী নির্ধারণ করতে পারে না।” তিনি আরও লেখেন, “আমাদের নৈতিক মূল্যবোধের ওপর এই নির্লজ্জ আক্রমণ বন্ধ করুন। তারা আপনাদের পায়ের নিচের মাটি খুঁড়ে ফেলছে।”
জায়নবাদী প্রভাব নিয়ে তাঁর অভিযোগগুলোকে বিধিনিষেধ সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যাখ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে বিতর্কটি এখন আর শুধু স্কুলের পোশাকবিধির প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। সমালোচকেরা ক্রমেই এটিকে আজারবাইজানের মুসলিম পরিচয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে বিরোধ হিসেবে তুলে ধরছেন।
আজারবাইজানে হিজাব নিষেধাজ্ঞার ইতিহাস
বর্তমান বিরোধের শিকড় এক দশকেরও বেশি আগে চালু হওয়া বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে। আজারবাইজানের স্কুলগুলোতে হিজাব পরার ওপর কার্যকর নিষেধাজ্ঞা শুরু হয় ২০১০ সালে। সে সময় দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন মিসির মারদানভ।
তিনি ঘোষণা করেছিলেন, শিক্ষার্থীদের এমন একটি নির্ধারিত স্কুল পোশাকবিধি মেনে চলতে হবে, যাতে হিজাব অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এই সিদ্ধান্তের পর বহু ছাত্রীকে স্কুলে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয় বলে খবর পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষ ইসলামি মাথার কাপড় পরা শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ার পক্ষে শিক্ষাসংক্রান্ত বিধিমালাকে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে।
এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনবিরোধিতা দেখা দেয়। বাকুতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাইরে প্রায় এক হাজার মানুষ জড়ো হয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানান। তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীর সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভ চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ও আবেদন
পরের বছর আবারও বিক্ষোভ শুরু হয়। শত শত মানুষ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাইরে জড়ো হন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অনেকে আহত হন। পরবর্তীতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়।
রাজধানীর বাইরেও বিরোধিতা ছড়িয়ে পড়ে। নারদারানসহ আজারবাইজানের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানোর জন্য আবেদনে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন।
এসব আবেদনে হিজাবের ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি হিজাব পরা শিক্ষার্থীদের বাধা ছাড়াই স্কুলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভ তীব্র হওয়ার এবং নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিরোধিতা ছড়িয়ে পড়ার একপর্যায়ে সরকার বিধিনিষেধ কার্যকরের প্রক্রিয়া স্থগিত করে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রীরা মাথায় হিজাব পরেই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। এই স্থগিতাদেশ তাৎক্ষণিক উত্তেজনা কমালেও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পোশাকের ব্যবহার নিয়ে মূল বিরোধের সমাধান করতে পারেনি।
সেপ্টেম্বরে স্কুলের পোশাকবিধিতে সংশোধন, নতুন করে বিতর্ক
সেপ্টেম্বরে আজারবাইজানের মন্ত্রিসভা স্কুলের পোশাকবিধিতে সংশোধনী অনুমোদন করার পর বিতর্কটি আবারও সামনে আসে। দেশটির শিক্ষাব্যবস্থার ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র আরও জোরদার করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এসব পরিবর্তন আনা হয়।
সংশোধিত বিধি অনুযায়ী, ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে অসংগত বলে বিবেচিত পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়। সরকারি সিদ্ধান্তের পর বাকু ও অন্যান্য অঞ্চলের স্কুল কর্তৃপক্ষ হিজাব পরা মেয়েদের অবিলম্বে স্কুলে প্রবেশ করতে বাধা দিতে শুরু করে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এই বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে পরিবার, শিক্ষার্থী, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ধর্মীয় অধিকারকর্মীরা আবারও সমালোচনা শুরু করেন। বিরোধীদের যুক্তি, হিজাব পরা মেয়েদের স্কুলে প্রবেশ করতে না দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাবিধি কার্যকর করা তাদের শিক্ষার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে এবং ধর্মীয় অনুশীলনকে শিক্ষায় অংশগ্রহণের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের মধ্যে ফেলে দেয়।
এ বিতর্কে আরও প্রশ্ন উঠেছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখার উদ্দেশ্যে প্রণীত বিধিনিষেধ শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় পোশাকের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা উচিত কি না।
নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করায় শিয়া ধর্মীয় নেতাকে গ্রেপ্তার
এই বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে বিধিনিষেধের বিরোধিতা করা ধর্মীয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হিজাব পরা মেয়েদের স্কুলে যেতে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টার নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর শিয়া ধর্মীয় নেতা আবিগুল সুলেইমানভকে গ্রেপ্তার করে কর্তৃপক্ষ।
একটি বক্তব্যে সুলেইমানভ বলেন, “তারা যদি হিজাব পরে স্কুলছাত্রীদের পড়াশোনা করতে বাধা দেওয়ার সাহস করে, তাহলে আমি কারাগার বেছে নেব এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করব।”
তিনি আরও বলেন, “যাই হোক, এই দেশের সবাই কারাগারের জীবন যাপন করছে।” তাঁর গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিতর্কটি নতুন মাত্রা পায়। ইসলামি ধর্মীয় অনুশীলন সম্পর্কে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ জানানো ধর্মীয় কণ্ঠস্বরগুলোর সঙ্গে আজারবাইজানি কর্তৃপক্ষের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কও এতে সামনে আসে।
ধর্মীয় বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে আজারবাইজানের সোভিয়েত আমলের উত্তরাধিকার
ধর্মের বিষয়ে আজারবাইজানের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি দেশটির সোভিয়েত আমলের ইতিহাস দ্বারা প্রভাবিত। সোভিয়েত আমলে কমিউনিস্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নাস্তিকতাভিত্তিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং প্রকাশ্যে ধর্মীয় জীবনযাপনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।
মসজিদ ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি প্রকাশ্যে ধর্মীয় উপাসনা এবং ধর্মীয় অঙ্গীকারের প্রকাশও ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আজারবাইজান স্বাধীনতা ফিরে পেলেও দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে কঠোর ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট হায়দার আলিয়েভের শাসনামলে রাষ্ট্র এমন একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যেখানে সংগঠিত ধর্মীয় কার্যক্রমের ওপর কঠোর তদারকি বজায় রাখা হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি রাষ্ট্রীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে আনা হয়। এর মাধ্যমে ধর্মের প্রকাশ্য ভূমিকার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান প্রতিফলিত হয়।
ইলহাম আলিয়েভ ক্ষমতায় আসার পরও এই নীতি অব্যাহত থাকে। তাঁর প্রশাসন ধর্ম ও রাষ্ট্রকে পৃথক রাখার সাংবিধানিক নীতি বজায় রাখে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারি তদারকির ব্যবস্থাও অব্যাহত রাখে।
হিজাব পরা স্কুলছাত্রীদের নিয়ে নতুন করে শুরু হওয়া বিরোধ দীর্ঘদিনের এসব উত্তেজনাকে আবারও জনপরিসরের আলোচনায় নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে আজারবাইজানের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুশীলনের সঙ্গে দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতির কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সেই প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে।
তারিখ: ১০ অক্টোবর ২০২৬
কৃতজ্ঞতায়: SunnaFiles Web
আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, হিজাব পরায় স্কুল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মুসলিম ছাত্রীদের
৭ অক্টোবরের পর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর সময় ফিলিস্তিনিরা কী সঙ্গে নিয়েছিলেন?
সিলেট দাওয়াহ এন্ড এডুকেশন সেন্টারের আয়োজনে বিশেষ নাসীহাহ সেশন অনুষ্ঠিত
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কীভাবে ক্যাথলিক যাজকদের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারকে পরিণত হলো
আল-আকসায় ‘মহাকায় সিজদা’ কী এবং কেন খেজুরের পাতা উঁচু করে ধরা হচ্ছে?
ইউরোপে কেন হঠাৎ নিকাব নিষিদ্ধের তোড়জোড়?
কিয়ামতের অন্যতম বড় নিদর্শন 'ধোঁয়া': সুন্নি আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা
মক্কা-মদিনায় হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে বিশ্বের মুসলিমরা: কায়কোবাদ
পবিত্র মক্কা অভিমুখে হুথিদের পাঠানো ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদি আরবের
ভারতে পশ্চিমবঙ্গের ২৫২টি মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ
গাজা যুদ্ধের প্রথম বছরেই ইসরায়েলের সাথে ১২৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি মাইক্রোসফটের
নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর খাদ্যাভ্যাস: সুস্থ জীবনের জন্য ১০টি উপকারী খাবার
মিডিয়ায় ইসলামের ওপর আক্রমণ: মুসলিম উম্মাহর করণীয়
ভেনিসে মুসল্লিদের জুমার নামাজে উসকানি, বন্ধ মসজিদেও হামলার অভিযোগ
দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ দূর করতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো ৯টি দোয়া
আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, হিজাব পরায় স্কুল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মুসলিম ছাত্রীদের
৭ অক্টোবরের পর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর সময় ফিলিস্তিনিরা কী সঙ্গে নিয়েছিলেন?
সিলেট দাওয়াহ এন্ড এডুকেশন সেন্টারের আয়োজনে বিশেষ নাসীহাহ সেশন অনুষ্ঠিত
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কীভাবে ক্যাথলিক যাজকদের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারকে পরিণত হলো
আল-আকসায় ‘মহাকায় সিজদা’ কী এবং কেন খেজুরের পাতা উঁচু করে ধরা হচ্ছে?
ইউরোপে কেন হঠাৎ নিকাব নিষিদ্ধের তোড়জোড়?
কিয়ামতের অন্যতম বড় নিদর্শন 'ধোঁয়া': সুন্নি আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা
মক্কা-মদিনায় হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করবে বিশ্বের মুসলিমরা: কায়কোবাদ
পবিত্র মক্কা অভিমুখে হুথিদের পাঠানো ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদি আরবের
ভারতে পশ্চিমবঙ্গের ২৫২টি মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ
গাজা যুদ্ধের প্রথম বছরেই ইসরায়েলের সাথে ১২৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি মাইক্রোসফটের
নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর খাদ্যাভ্যাস: সুস্থ জীবনের জন্য ১০টি উপকারী খাবার
মিডিয়ায় ইসলামের ওপর আক্রমণ: মুসলিম উম্মাহর করণীয়
ভেনিসে মুসল্লিদের জুমার নামাজে উসকানি, বন্ধ মসজিদেও হামলার অভিযোগ
দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ দূর করতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো ৯টি দোয়া